ম্যারাডোনা করোনায় মারা যেতে পারেন—আদালতে চাঞ্চল্যকর দাবি

২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর মারা যান ডিয়েগো ম্যারাডোনা। ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল নক্ষত্র ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর কারণ নিয়ে চলমান মামলায় নতুন মোড় এসেছে।

আদালতের নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাবলো ফেরারি দাবি করেছেন, ২০২০ সালে ম্যারাডোনার মৃত্যুর পেছনে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের ভূমিকা ছিল কি না, তা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সামনে এসেছে আর্জেন্টিনার সান ইসিদ্রো আদালতে মামলার শেষ পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণে। ফেরারি আদালতে বলেন, ম্যারাডোনার ময়নাতদন্তের সময় কোভিড-১৯ পরীক্ষা না করাটা ছিল পদ্ধতিগত ভুল। 

ফেরারির ভাষায়, ‘আমরা এটা উড়িয়ে দিতে পারি না যে, তিনি কোভিডে মারা গেছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘করোনাভাইরাস শ্বাসনালির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর শারীরিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটিয়ে মৃত্যু ঘটাতে পারে।’

ম্যারাডোনা ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার তিগ্রেতে নিজ বাড়িতে মারা যান। মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচারের পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন। এত দিন তার মৃত্যুকে হৃদরোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানানো হয়েছে।

আদালতে ফেরারি আরো দাবি করেন, ম্যারাডোনার শেষ সময়টা দীর্ঘ যন্ত্রণার ছিল না, ‘তার যন্ত্রণার সময় কয়েক মিনিটের বেশি হওয়ার কথা নয়।’

এই বিশেষজ্ঞের বক্তব্য ম্যারাডোনার চিকিৎসক লিওপোলদো লুকের দেওয়া প্রতিরক্ষা যুক্তির সঙ্গেও মিলে যায়। লুকের দাবি ছিল, ফুসফুসে হঠাৎ তরল জমে শ্বাসকষ্ট তৈরি হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় লুকসহ সাত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে। আগামী ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা মামলার চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক।

LEAVE A REPLY