মেসির বাবার সমাধিস্থলের আকাশে ড্রোন ওড়ানো হয়েছে। ছবি: রয়টার্স ও এএফপি
লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসির শেষকৃত্যের সময় সমাধিস্থলের ওপর দিয়ে উড়ছিল সংবাদমাধ্যমের ড্রোন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ।
রোজারিওর এল প্রাদো সমাধিস্থলে আর্জেন্টিনার স্থানীয় সময় গতকাল (৯ আগস্ট) দুপুরে শেষ হয়েছে হোর্হে মেসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। তবে বাবাকে চির বিদায় জানানোর সেই নিভৃত মুহূর্তেও রেহাই মেলেনি সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা থেকে।
ড্রোন ক্যামেরাগুলো আকাশ থেকে একের পর এক ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে থাকে। মেসি ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত এই শোকের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী হওয়ায় অনেকেই সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা কাপিতাল জানিয়েছে, হোর্হে মেসির শেষ বিদায়ের সময় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের ড্রোন সমাধিক্ষেত্রের ওপর দিয়ে উড়ছিল। মেসি ও তার পরিবারের সদস্যরা যখন শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছিলেন, তখন আকাশ ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিএন, লা নাসিওন প্লাস, সি৫এন-এর মতো কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ড্রোন সেখানে দেখা যায়। ব্যক্তিগত শোকের এমন মুহূর্তে আকাশ থেকে ছবি ধারণের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনার পর সমাধিক্ষেত্র এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ড্রোন ব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করে শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি ও যানবাহনকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) মারা যান হোর্হে মেসি। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি।
বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আর্জেন্টিনায় ফিরে আসেন মেসি। স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানরাও তার সঙ্গে ছিলেন।
বাবার শেষ বিদায়ের সময় সমাধিক্ষেত্রের বাইরে মেসির অনেক ভক্ত জড়ো হন। তারা ফুল নিয়ে আসেন এবং মেসির প্রতি সমবেদনা জানান। অনেকের হাতে ছিল ‘শক্ত থাকো, লিও।’
হোর্হে মেসি শুধু মেসির বাবা ছিলেন না, তার ফুটবল ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তার ক্যারিয়ার গড়ে তোলার পেছনে বাবার বড় অবদান ছিল।
মেসি যখন মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনায় যোগ দিতে স্পেনে যান, তখনো হোর্হে পাশে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ছেলের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন বিষয়ও তিনি দেখভাল করেছেন।
এ কারণে বাবার শেষ বিদায়ের মুহূর্তটি মেসি ও তার পরিবারের জন্য ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। সেই ব্যক্তিগত মুহূর্তে ড্রোন দিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণের বিষয়টি আর্জেন্টিনায় সাংবাদিকতার সীমা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।










































