মেসির ‘প্রথম অবসর’ ঘোষণার পর কী বলেছিলেন রোনালদো

সংগৃহীত ছবি

উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের খেতাব ধরে রাখার মিশনটি যেমন চেয়েছিলেন, ঠিক তেমনভাবে শেষ করতে পারলেন না লিওনেল মেসি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানের হারে স্বপ্নভঙ্গ হয় আলবিসেলেস্তেদের।আর এই পরাজয়ের ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলের পোশাকে মহাতারকা মেসির শেষ উপস্থিতি হয়ে রইল। বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান এই বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।

অবশ্য জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়ের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে আবেগঘন হয়ে হুট করেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী মেসি।পেড্রাগালে টাইব্রেকারে শট মিস করার সেই হৃদয়ভাঙা রাতে মেসির এমন সিদ্ধান্ত স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুরো ফুটবলবিশ্বকে। সে সময় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

তৎকালীন স্প্যানিশ পত্রিকা ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির কঠিন সিদ্ধান্তকে সমবেদনা জানিয়ে রোনালদো বলেছিলেন, ‘মেসি খুব কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সবার উচিত ওর মানসিক অবস্থাটা বোঝা। ও হারতে বা ব্যর্থ হতে অভ্যস্ত নয়, এমনকি দ্বিতীয় হওয়াটাও ওর সঙ্গে যায় না।কেবল একটা পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ ফুটবলার হয়ে যায় না।’

সে সময় রোনালদো ধারণাও করতে পারেননি যে মেসি পরবর্তীতে ফিরে এসে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় করে নিজের ক্যারিয়ারের ষোলোকলা পূর্ণ করবেন—যে বিশ্বকাপ ট্রফিটি পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য এখনো অধরা হয়ে রয়েছে। তবুও প্রতিদ্বন্দ্বীর কষ্টে সমব্যাথী হয়ে সেদিন রোনালদো প্রকাশ করেছিলেন নিজের অনুভূতি, ‘মেসিকে এভাবে চোখের জলে ভেঙে পড়তে দেখাটা সত্যিই বেদনার। আমি আশা করি ও নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জাতীয় দলে ফিরবে, কারণ আর্জেন্টিনার ওকে ভীষণ প্রয়োজন।’

রোনালদোর সেই আশাবাণী সত্য প্রমাণ করে সেবার অবসর ভেঙে ফিরে এসে দেশকে এনে দিয়েছিলেন পরম কাঙ্ক্ষিত সব সোনালী ট্রফি।তবে এবার ৩৯ ছোঁয়া মেসির পক্ষে আর ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে। 

LEAVE A REPLY