সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতে লেখা কাগজে তুলে ধরা ৩১৮ শব্দের আবেগঘন বার্তাটি শুধু একজন রূপকথার নায়কের বুট জোড়া তুলে রাখার ঘোষণা ছিল না, তার অলক্ষে মিশে ছিল বহু বছরের জমে থাকা কষ্ট, অভিমান ও ক্ষোভ।যে কথাগুলো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়—পরপর দুবার কোপা আমেরিকা ও কাতার বিশ্বকাপ এনে দিয়ে দেশকে উল্লাসে ভাসালেও, ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজ দেশের ভক্ত ও সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তীক্ষ্ণ খোঁচাগুলো আজও ভুলতে পারেননি এই মহাতারকা।
আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ২০৭ ম্যাচে ১২৫টি গোল করেছেন মেসি। কিন্তু সাফল্য ও উদযাপনের আড়ালে ঢেকে যাওয়া পুরোনো এক ক্ষতের ছবি আবার ফুটে উঠেছে তার বিদায়বার্তায়।
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা চিঠিতে মেসি লিখেছেন, ‘এটি অত্যন্ত কষ্টদায়ক একটি সিদ্ধান্ত ছিল এবং এখনও আমার হৃদয়ের গভীরে আঘাত করছে।তবে আমি অনুধাবন করতে পারছি যে উপযুক্ত সময় এসে গেছে। আমি সবসময় আমার সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। কেবল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নয় যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, বরং তার আগের দিনগুলোতেও। আমি সবসময় লড়াই করেছি এবং এই জার্সিটার জন্য আমার সবটুকু উজাড় করে দিয়েছি, যাতে ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।’
আজকের বিশ্বজয়ী মেসিকে পুরো আর্জেন্টিনা মাথায় তুলে রাখলেও, ২০১৬ সালের আগের ছবিটা ছিল একদম উল্টো। বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক ট্রফি ও ব্যালন ডি’অর জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে পরপর চারটি ফাইনালে হেরে যাওয়ায় চরম ক্ষোভের সামনে পড়তে হয়েছিল তাকে।
সে সময় খোদ আর্জেন্টিনার ভক্ত ও সংবাদমাধ্যম থেকে অভিযোগ তোলা হতো—মেসি নাকি দেশের চেয়ে বার্সেলোনাকে বেশি ভালোবাসেন! ডিয়েগো ম্যারাডোনার মতো সতীর্থদের অনুপ্রেরণা দেওয়ার ক্ষমতা নাকি তার নেই। এমনকি জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় তার আবেগ দেখা যায় না—এমন অহেতুক ও ভিত্তিহীন খোঁচাও শুনতে হয়েছিল তাকে। সেই মনকষ্ট সহ্য করতে না পেরে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনাল হারের পর ২৯ বছর বয়সেই প্রথমবার জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।
অবসর ভেঙে ফিরে আসার পর শেষ ৮ বছরে আকাশি-সাদাদের দুটি কোপা আমেরিকা ও একটি সোনালী বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছেন মেসি। যে ভক্তরা একসময় তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তারাও নিশ্চিতভাবে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন।
তবে বিদায়বেলায় মেসির এমন আকুতি প্রমাণ করে—তিনি হয়তো ভক্তদের ক্ষমা করেছেন, কিন্তু মনের কোণে জমে থাকা সেই অবিচারের দাগ পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারেননি। একজন সাধারণ মানুষের মতোই সেই পুরোনো অপমান ও অন্যায্য সমালোচনা তাকে তাড়িয়ে বেড়িয়েছে এতগুলো বছর।










































