সংগৃহীত ছবি
ভারতের শ্রীহরিকোটার রাতের আকাশে যখন আগুনের ফুলকি ছুটে ওঠে, তখন সেটি শুধু একটি রকেটের উৎক্ষেপণ নয়। কয়েক মিনিটের সেই দৃশ্যের পেছনে থাকে কয়েক দশকের বিজ্ঞান, ব্যর্থতা থেকে শেখা, প্রযুক্তি নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জেদ এবং একটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বপ্ন।
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ভোরেও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উড়ে গেছে GSLV-F17, সঙ্গে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ EOS-05। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, এটি GSLV-এর ১৯তম অভিযান এবং মিশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আজকের এই সাফল্যকে শুধু আরেকটি সফল উৎক্ষেপণ হিসেবে দেখলে ভারতের মহাকাশযাত্রার আসল গল্পটি ধরা পড়বে না।
কারণ গল্পটি শুরু হয়েছিল অনেক আগে।
১৯৭৫ সালের ১৯ এপ্রিল আর্যভট্ট নামে ভারতের প্রথম উপগ্রহ মহাকাশে যায়। তখন ভারত মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর থেকে বহু দূরে। কিন্তু সেই ছোট্ট উপগ্রহের মধ্যেই ছিল একটি বড় ঘোষণা- ভারত মহাকাশে নিজের জায়গা তৈরি করতে চায়।এরপর ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে সেই সক্ষমতা। PSLV হয়ে উঠেছে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযানগুলোর একটি। একই রকেটে একসঙ্গে বহু উপগ্রহ পাঠানোর সক্ষমতা ভারতকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ বাজারেও পরিচিত করে। একসময় একসঙ্গে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণের রেকর্ডও তৈরি করে ভারত।
বিদেশি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে করতে ভারত বুঝিয়ে দিয়েছে মহাকাশ শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার জায়গা নয়, এটি একটি বাণিজ্যিক ক্ষেত্রও।কিন্তু ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তখনও পৃথিবীর কক্ষপথে আটকে ছিল না।
২০১৩ সালে উৎক্ষেপণের পর ভারতের মঙ্গলযান ২০১৪ সালে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছে যায়। প্রথম প্রচেষ্টাতেই মঙ্গল কক্ষপথে পৌঁছানোর সাফল্য ভারতকে আন্তর্জাতিক মহাকাশ অঙ্গনে আলাদা করে দেয়। এরপর আসে চাঁদের পালা। ২০০৮ সালে চন্দ্রযান-১ চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছানোর পর ২০২৩ সালে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছে সফল অবতরণ করে। ভারত হয়ে যায় চাঁদে সফলভাবে অবতরণকারী চতুর্থ দেশ এবং দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে প্রথম সফল দেশ।
এই সাফল্যের আরেকটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো খরচের দক্ষতা। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলক কম খরচে জটিল মিশন পরিচালনার জন্য পরিচিত। মঙ্গল অভিযান কিংবা চন্দ্রযান-৩, দুই ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মহাকাশশক্তিগুলোর ব্যয়ের তুলনায় ভারতের ব্যয়ের পার্থক্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। অর্থাৎ ভারত শুধু বলছে না, ‘আমরাও পারি।’ ভারত বলছে- কম সম্পদ দিয়েও আমরা জটিল কাজও করতে পারি।
তবে মহাকাশ প্রযুক্তির কিছু পরীক্ষা আছে, যেখানে শুধু রকেট বানালেই হয় না। সেখানে প্রয়োজন মহাকাশে এক মহাকাশযানকে আরেকটির সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেওয়া। এ কাজটিই করেছে ভারতের SpaDeX। দুটি ছোট মহাকাশযান। একটি ‘Chaser’, অন্যটি ‘Target’। পৃথিবীর চারপাশে ছুটতে থাকা দুই মহাকাশযানের আপেক্ষিক গতি নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কাছাকাছি আনা, তারপর নিরাপদে যুক্ত করা- শুনতে সহজ, কিন্তু বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫-এ ভারত সফলভাবে সেই ডকিং সম্পন্ন করে। পরে ১৩ মার্চ সফলভাবে আনডকিংও করে। এরপর এপ্রিল মাসে দ্বিতীয়বার স্বয়ংক্রিয় ডকিং এবং দুই মহাকাশযানের মধ্যে বিদ্যুৎ স্থানান্তরও সফলভাবে প্রদর্শিত হয়। এর ফলে মহাকাশে ডকিং প্রযুক্তি প্রদর্শনকারী চতুর্থ দেশ হয়ে ওঠে ভারত।
এর গুরুত্ব শুধু একটি প্রযুক্তিগত রেকর্ডে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে চাঁদ থেকে নমুনা ফিরিয়ে আনা, একাধিক উৎক্ষেপণ মিলিয়ে বড় মহাকাশ মিশন পরিচালনা এবং মহাকাশ স্টেশন নির্মাণের মতো প্রকল্পে ডকিং প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসরোও SpaDeX-কে ভবিষ্যৎ চন্দ্র মিশন ও ভারতীয় মহাকাশ স্টেশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছে। অর্থাৎ ভারত এখন শুধু মহাকাশে পৌঁছাতে চাইছে না। মহাকাশে গিয়ে সেখানে কাজ করতেও শিখছে। ব্যর্থতার গল্পটাও এই সাফল্যেরই অংশ
মহাকাশযাত্রার গল্পে শুধু সাফল্য থাকলে সেটি বাস্তব গল্প হয় না। PSLV-C61 ব্যর্থ হয়েছিল ২০২৫ সালের মে মাসে। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে PSLV-C62/EOS-N1 মিশনও সফল হয়নি। ইসরোর দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণযানের পরপর ব্যর্থতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু এখানেই মহাকাশ গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা- ব্যর্থতা মানেই যাত্রা শেষ নয়। আজকের EOS-05 উৎক্ষেপণের তাৎপর্য তাই কিছুটা আলাদা। সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পর GSLV-F17 সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করেছে। ইসরোর বর্তমান মিশন তালিকাতেও ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর EOS-05 মিশনকে সফল হিসেবে দেখানো হয়েছে।
আর GSLV-এর নিজের ইতিহাসও সহজ নয়। রকেটটির ক্রায়োজেনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে ভারতকে দীর্ঘ সময় দিতে হয়েছে। বিদেশি প্রযুক্তি পাওয়ার পথে বিধিনিষেধ ও ভূরাজনৈতিক বাধার পর নিজেদের প্রযুক্তি নিজেরাই তৈরি করেছে ইসরো। তাই আজকের GSLV-এর প্রতিটি সফল উড্ডয়ন শুধু একটি উপগ্রহকে কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়া নয়- এটি বহু বছরের প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ফল।
৪ সেপ্টেম্বরের EOS-05 মিশন সেই সক্ষমতারই আরেকটি প্রদর্শন। ইসরোর তথ্য অনুযায়ী, GSLV-F17 সফলভাবে EOS-05-কে নির্ধারিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে। উপগ্রহটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণের জন্য তৈরি এবং জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর নজর রাখতে পারবে। এভাবেই আকাশের চোখ হয়ে থাকবে EOS-05। এই ধরনের উপগ্রহের গুরুত্ব মহাকাশ গবেষণার বাইরেও।
কৃষি, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, জলসম্পদ কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা- পৃথিবীকে ওপর থেকে দেখার ক্ষমতা এখন একটি দেশের বাস্তব সক্ষমতার অংশ। এক অর্থে, EOS-05 শুধু ‘মহাকাশে ভারতের চোখ’ নয়। এটি পৃথিবীতে ভারতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও বাড়াতে পারে। এখানেই ভারতের মহাকাশযাত্রায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ঘটছে। একসময় মহাকাশ মানেই ছিল সরকার। রকেট বানাবে সরকার, উৎক্ষেপণ করবে সরকার, উপগ্রহ বানাবে সরকার। এখন সেই ছবিতে ঢুকে পড়েছে স্টার্টআপ।
২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি অংশগ্রহণের জন্য খুলে দেওয়ার পর দৃশ্যপট দ্রুত বদলেছে। ২০১৪ সালে ভারতে নিবন্ধিত স্পেস স্টার্টআপ ছিল মাত্র একটি। ২০২৬ সালের আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪৪০ হয়েছে। ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির মূল্যও প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বলে সরকারি তথ্য জানাচ্ছে। অর্থাৎ মহাকাশ এখন আর শুধু রাষ্ট্রীয় গবেষণাগারের বিষয় নয়। এটি হয়ে উঠছে একটি শিল্প। সেই পরিবর্তনের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক—Vikram-1।
১৮ জুলাই ২০২৬। শ্রীহরিকোটা থেকে উড়ে গেল Skyroot Aerospace-এর Vikram-1। এটি ছিল ভারতের প্রথম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তৈরি অরবিটাল রকেট, যা ভারতীয় মাটি থেকে সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছায়। প্রথম প্রচেষ্টাতেই রকেটটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে পেলোড স্থাপন করে। এখানেই ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে একটি প্রতীকী পরিবর্তন ঘটে। যে শ্রীহরিকোটা এতদিন মূলত রাষ্ট্রীয় মহাকাশ কর্মসূচির উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখান থেকেই এবার একটি ভারতীয় বেসরকারি কম্পানি নিজের তৈরি রকেট নিয়ে কক্ষপথে পৌঁছে গেল
২০২২ সালে Skyroot-এর Vikram-S ছিল প্রথম বেসরকারি ভারতীয় রকেট উৎক্ষেপণের সূচনা। সেটি ছিল সাব-অরবিটাল প্রযুক্তি প্রদর্শন। চার বছর পর Vikram-1 সেই গল্পকে কক্ষপথ পর্যন্ত নিয়ে গেল। এ যেন ‘আমরাও পারি’ থেকে ‘আমরাও ব্যবসা করতে পারি’-তে যাত্রা। এই পরিবর্তনের পেছনে নীতিগত সিদ্ধান্তও রয়েছে। ২০২৩ সালের Indian Space Policy এবং ২০২৪ সালের উদারীকৃত FDI নীতির মাধ্যমে বেসরকারি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। নির্দিষ্ট উপখাতে স্বয়ংক্রিয় পথে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।
ফলে নতুন কোম্পানিগুলো শুধু রকেট বানাচ্ছে না। কেউ বানাচ্ছে স্যাটেলাইট। কেউ মহাকাশে রোবোটিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। কেউ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করছে। কেউ স্যাটেলাইট ডেটা নিয়ে ব্যবসা করছে। কেউ আবার ইন-স্পেস সার্ভিসিংয়ের প্রযুক্তি তৈরি করছে। সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত IN-SPACe ৫২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ১১৩টি অনুমোদন দিয়েছে। এই ecosystem-এ রাষ্ট্র আর একমাত্র খেলোয়াড় নয়। বরং রাষ্ট্র এখন অনেকটা মাঠ তৈরি করে দেওয়া অংশীদার।
ভারতের মহাকাশ অর্থনীতি এখন আনুমানিক ৯ বিলিয়ন ডলারের। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আগামী দশকে তা ৪০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগও দ্রুত বাড়ছে। এখানে লক্ষ্য শুধু জাতীয় গৌরব নয়। লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজার। বিশ্বে হাজার হাজার ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রয়োজন বাড়ছে। যোগাযোগ, ইন্টারনেট, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, নেভিগেশন- সব ক্ষেত্রেই স্যাটেলাইটের চাহিদা বাড়ছে। ভারত সেই বাজারে নিজের জায়গা বড় করতে চায়। PSLV দিয়ে বিদেশি উপগ্রহ পাঠানোর যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটিই এখন নতুন রূপ নিচ্ছে- ভারত শুধু অন্যের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করবে না; ভারতীয় কম্পানিও রকেট, উপগ্রহ ও মহাকাশ পরিষেবা বিক্রি করবে।
তবে এই পুরো গল্পের সবচেয়ে বড় অধ্যায় এখনও লেখা হয়নি। সেটি হলো গগনযান। ভারতের লক্ষ্য মানুষকে মহাকাশে পাঠানো। তার আগে মানুষবিহীন মিশনের মাধ্যমে রকেট, ক্রু মডিউল, জীবনধারণ ব্যবস্থা, উদ্ধার ব্যবস্থা এবং পুরো মিশন কাঠামো পরীক্ষা করা হবে। এর পরের লক্ষ্য আরো বড়- ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে ভারতীয় নভোচারী পাঠানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষা। আর SpaDeX-এর ডকিং প্রযুক্তি, উন্নত GSLV/LVM3, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ এবং বেসরকারি রকেট- এসব আলাদা আলাদা প্রকল্প মনে হলেও আসলে তারা একই ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। একটি ভবিষ্যৎ যেখানে ভারত শুধু মহাকাশে যাবে না। মহাকাশে দীর্ঘ সময় থাকবে।
চাঁদে মানুষ পাঠানোর পাশাপাশি ভারত শুক্রগ্রহের কক্ষপথে মিশন পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছে। চাঁদ থেকে নমুনা ফিরিয়ে আনা, মহাকাশ স্টেশন তৈরি, ইন-স্পেস সার্ভিসিং এবং মানব মহাকাশযাত্রা- সব মিলিয়ে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও বহুমাত্রিক। এমনকি ২০২৫ সালে ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাত্রাও এই নতুন অধ্যায়ের অংশ। ISRO-এর ২০২৫-২৬ সালের সরকারি প্রতিবেদনে তার Axiom-4 মিশনে ISS-এ যাত্রা এবং সাতটি মাইক্রোগ্র্যাভিটি পরীক্ষা সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ গগনযানের আগে ভারত ইতিমধ্যেই একজন ভারতীয়কে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
১৯৬৯ সালে ইসরো যখন যাত্রা শুরু করেছিল, তখন প্রশ্ন ছিল- ভারত কি মহাকাশে যেতে পারবে? আর্যভট্ট সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিল। PSLV বলেছিল, ভারত নিয়মিতভাবে মহাকাশে যেতে পারে। মঙ্গলযান বলেছিল, ভারত গভীর মহাকাশেও পৌঁছাতে পারে। চন্দ্রযান-৩ বলেছিল, ভারত চাঁদে অবতরণ করতে পারে এবং তার দক্ষিণ মেরু অঞ্চলেও। SpaDeX বলল, ভারত মহাকাশে দুটি মহাকাশযানকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। Vikram-1 বলল, ভারতীয় বেসরকারি কম্পানিও কক্ষপথে রকেট পাঠাতে পারে। আর EOS-05-এর মতো মিশন দেখাচ্ছে, পৃথিবীর ওপর থেকে নির্ভুলভাবে নজর রাখার সক্ষমতাও ক্রমশ বাড়ছে।
তাই ভারতের মহাকাশযাত্রার পরবর্তী প্রশ্ন আর ‘ভারত পারবে কি না’ নয়। প্রশ্নটি এখন অন্যরকম- ভারত কত দূর যেতে চায়? তার উত্তর খুঁজতে হয়তো আর খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না। শ্রীহরিকোতার উৎক্ষেপণ মঞ্চে একের পর এক রকেট প্রস্তুত হচ্ছে। সরকারি সংস্থা তার পরবর্তী অভিযান সাজাচ্ছে। বেসরকারি কম্পানিগুলো নতুন রকেট তৈরি করছে। শত শত স্টার্টআপ মহাকাশকে ব্যবসার নতুন সীমান্ত হিসেবে দেখছে। আর কয়েক মিনিটের জন্য রাতের আকাশ আলোকিত করে যে রকেটগুলো উঠে যাচ্ছে, তারা আসলে বহন করছে আরো বড় কিছু। আর তা হলো একটি দেশের মহাকাশে স্থায়ী হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা। আকাশ আজ আর ভারতের সীমা নয়। আকাশ এখন ভারতের পরবর্তী কর্মক্ষেত্র।










































