খেলা চলাকালে ইনফ্লুয়েন্সারদের হৈচৈ, ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বললেন টেনিস তারকারা

সংগৃহীত ছবি

টেনিস কোর্টে লাইট, ক্যামেরা আর অযাচিত শব্দ! সাধারণত টেনিস ম্যাচে পয়েন্ট চলাকালীন নিখাদ নীরবতা আশা করা হয়, তবে এবারের ইউএস ওপেনে সেই অলিখিত নিয়ম যেন ভাঙার প্রতিযোগিতা চলছে। আর এর মূলে রয়েছেন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা, যাদের আচরণ নিয়ে এখন তোলপাড় টেনিস দুনিয়া।

টুর্নামেন্ট ঘিরে প্রায় ১০০ জন ইনফ্লুয়েন্সারকে অ্যাক্রেডিটেশন দিয়েছে আয়োজকরা, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। খেলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করার লক্ষ্য হলেও, কোর্টে তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারকা খেলোয়াড়রা।

আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ চলাকালেই ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ভিআইপি বক্সের একদল ইনফ্লুয়েন্সার খেলা চলাকালীনই নিজেদের রিং লাইট জ্বালিয়ে ফটোশুট শুরু করে দেন, এমনকি উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে থাকেন।ওসাকা যখন সার্ভিস করছিলেন, তখন তাদের কাণ্ড দেখে খেলা থামিয়ে সতর্ক করতে বাধ্য হন আম্পায়ার। এমনকি বৃহস্পতিবারের ম্যাচেও আম্পায়ারকে একাধিকবার দর্শকদের শান্ত থাকার তাগিদ দিতে দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে ওসাকা বলেন, ‘খেলা দেখতে এলে টেনিসের ঐতিহ্য ও সৌজন্য মেনে চলা উচিত। খেলা চলাকালীন চিৎকার আমার এবং প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট করছিল।বিষয়টি আরো ভালোভাবে সামলানো দরকার ছিল।’

একই সুরে কথা বলেছেন বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ের চার নম্বর তারকা কোকো গফ। তিনি বলেন, ‘রেড কার্পেটে তো কেউ জিন্স পরে যেতে পারে না! খেলাটির একটি নির্দিষ্ট শিষ্টাচার আছে, তা সবারই মেনে চলা উচিত।’ বিশ্ব নম্বর তিন জেসিকা পেগুলা এ ধরনের আচরণকে ‘অবমাননাকর’ উল্লেখ করে বলেন, ‘খেলোয়াড়দের জন্য এটা তাদের ক্যারিয়ার ও পেশা। ভিডিও বা সেলফি লাইট দিয়ে তাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটানো মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

তবে বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন অনেকেই। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ড্যানিল মেদভেদেভ জানান, টেনিসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে যেকোনো পদক্ষেপকেই তিনি স্বাগত জানান। ফ্রান্সেস তিয়াফোও দর্শক বৈচিত্র্যকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইউএস ওপেনে পয়েন্ট চলাকালীনও দর্শকদের চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল, আর এবার বাড়ানো হয়েছে দিনসংখ্যাও। টেনিসকে ‘ডিসনিল্যান্ড’-এর মতো আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ বাইরে চলে যাওয়ায় আয়োজক সংস্থা ইউএসটিএ এখন স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বারবার সতর্কতা বার্তা দেখাচ্ছে, যেন কেউ খেলা চলাকালীন রিং লাইট, ফ্ল্যাশ বা চিৎকার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে।

LEAVE A REPLY