মোদির ‘কুরুচিকর’ ছবি মামলায় আপাতত স্বস্তি শ্রীলেখার

সংগৃহীত ছবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি-সংবলিত একটি পোস্টার ঘিরে আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এবার সেই মামলায় আপাতত স্বস্তি পেলেন তিনি।অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এখনই কোনো ধরনের কড়া পদক্ষেপ না করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।

শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশে এই স্বস্তি পান শ্রীলেখা। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআর খারিজের আবেদনও আদালতে জানানো হয়েছে।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে মামলার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষকে হলফনামা দিতে হবে।

তবে শুনানিতে পোস্টারটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তাঁর মন্তব্য, ‘কেন এমন পোস্ট করেন মামলাকারী? এটা কোনো কার্টুন হতে পারে না।এটা সত্যিই লজ্জাজনক পোস্টার। একজন বিচক্ষণ নাগরিক হিসেবে এমন পোস্ট ফেসবুকে করেন কিভাবে! এই পোস্ট সত্যিই লজ্জাজনক বা কষ্টদায়ক। তিনি একজন অভিনেত্রী, ধরে নেওয়া হবে তিনি সংবেদনশীল, তার পরেও এমন পোস্ট কেন? এটা কার্টুন নয়। বিচক্ষণ সংবেদনশীল নাগরিক হিসেবে এমন পোস্ট কেন?’

শ্রীলেখার হয়ে আদালতে প্রশ্ন করেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও শামিম আহমেদ। তাঁরা জানান, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মোট ১৬টি এফআইআর দায়ের হয়েছে।

তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট পোস্টারটি রুচিহীন বা আপত্তিকর হতে পারে, কিন্তু সেটির ভিত্তিতে ফৌজদারি মামলা চালানোর মতো কোনো অপরাধ হয়েছে কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

শুনানির সময় পোস্টারটি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। বিচারপতি জানতে চান, ‘এমন পোস্টার কীভাবে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা যায়?’ তবে শুনানি শেষে আপাতত শ্রীলেখার বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ জুলাই। নিট-এর প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কলকাতার রাস্তায় প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন বহু মানুষ। সেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন শ্রীলেখাও। অভিযোগ ওঠে, তাঁর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর ছবি ছিল।

এরপর আনন্দপুর থানায় বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ ছাড়া আরো অনেকে বিভিন্ন থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানাসহ একাধিক জায়গাতেও অভিযোগ জমা পড়ে বলে জানা যায়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২, ৩৫৩ ও ৩৫৬ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে বলে খবর।

অভিযোগের পর শ্রীলেখা দাবি করেছিলেন, তিনি পোস্টারটি ভালো করে দেখতে পাননি। সেদিন সঙ্গে চশমা না থাকায় পোস্টারে কী ছবি রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি বলেও জানান তিনি। 

তাঁর দাবি, প্রতিবাদের সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করছিল এবং সেই পরিস্থিতিতে কোনোমতে ছবিটি তুলেছিলেন। পোস্টারটি ঘুরিয়ে দেখার সুযোগও তাঁর হয়নি।

আদালতের এদিনের নির্দেশের পর শ্রীলেখা বলেন, ‘এটাই আশা করেছিলাম আদালতের কাছ থেকে। আমার আইনজীবীদের ধন্যবাদ।’

অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আবেদনটির বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, পোস্টারটি নিঃসন্দেহে আপত্তিকর এবং অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

LEAVE A REPLY