সংগৃহীত ছবি
শ্যাম্পু করার পর প্রচুর ফেনা উঠলেই চুল ভালোভাবে পরিষ্কার হয়েছে—এমন ধারণা অনেকেরই। কিন্তু এই অতিরিক্ত ফেনার পেছনে থাকা সালফেট চুল ও মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও সরিয়ে দিতে পারে।তাই অনেকেই এখন সালফেটমুক্ত শ্যাম্পুর দিকে ঝুঁকছেন। তবে সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ছেড়ে দিলে শুরুতে চুলে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সালফেট মূলত শক্তিশালী ক্লিনজিং উপাদান। এটি মাথার ত্বক থেকে ময়লা, ঘাম, অতিরিক্ত তেল ও বিভিন্ন পণ্যের জমে থাকা অংশ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।একই সঙ্গে তৈরি করে বেশি ফেনা, যে কারণে চুল ধোয়ার পর পরিষ্কার ও সতেজ অনুভূতি হয়।
তবে অতিরিক্ত শক্তিশালী ক্লিনজিংয়ের কারণে মাথার ত্বকের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেলও কমে যেতে পারে। এতে চুল শুষ্ক, রুক্ষ ও ফ্রিজি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
সালফেট ছেড়ে দিলে শুরুতে কী হয়?
সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলে প্রথম দিকে চুল আগের চেয়ে বেশি তেলতেলে বা ভারী মনে হতে পারে।কারণ মাথার ত্বক নতুন ধরনের ক্লিনজিংয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেয়।
সালফেটমুক্ত শ্যাম্পুতে সাধারণত ফেনা কম হয়। ফলে আগের মতো ‘অতিরিক্ত পরিষ্কার ও শুষ্ক অনুভূতি’ না পাওয়ায় অনেকের মনে হতে পারে শ্যাম্পু ঠিকমতো কাজ করছে না। কিন্তু কম ফেনা মানেই কম পরিষ্কার—এমন নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের সময়টা সাধারণত কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।ধীরে ধীরে মাথার ত্বকের তেল উৎপাদন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে।
এরপর চুলে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
সময় গড়ালে চুলে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়তে পারে। ফলে চুল তুলনামূলকভাবে নরম, উজ্জ্বল ও নমনীয় মনে হতে পারে। মাথার ত্বকের শুষ্কতা, চুলকানি ও ফ্লেকিংয়ের সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।
বিশেষ করে শুষ্ক, কোঁকড়ানো, রং করা বা রাসায়নিকভাবে ট্রিট করা চুলে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু তুলনামূলকভাবে কোমল হতে পারে। চুলের কিউটিকল মসৃণ থাকলে ফ্রিজ কম দেখা দিতে পারে এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে।
তবে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু সবার জন্য একইভাবে কাজ করবে—এমন নয়। মাথার ত্বকের ধরন এবং চুলের অবস্থা অনুযায়ী ফল ভিন্ন হতে পারে।
কীভাবে সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ছাড়বেন?
একেবারে হঠাৎ পরিবর্তন না করে প্রথম কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত শ্যাম্পুর সঙ্গে সালফেটমুক্ত শ্যাম্পু পালা করে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ সময় চুল কিছুটা তেলতেলে বা ভারী লাগলে খুব ঘন ঘন শ্যাম্পু না করে মাথার ত্বককে মানিয়ে নেওয়ার সময় দিতে পারেন।
শ্যাম্পু ব্যবহারের সময় মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। চুলে অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহারের কারণে বিল্ডআপ হলে কয়েক সপ্তাহ পরপর ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুধু ‘সালফেট-ফ্রি’ লেখা দেখলেই হবে না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বোতলের গায়ে ‘সালফেট-ফ্রি’ লেখা আছে কি না, সেটি দেখেই শ্যাম্পু বেছে নেওয়া ঠিক নয়। মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুষ্ক মাথার ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজিং ও সুদিং উপাদানযুক্ত শ্যাম্পু উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে তৈলাক্ত মাথার ত্বকের জন্য প্রয়োজন হতে পারে তুলনামূলক হালকা কিন্তু কার্যকর ক্লিনজার।
কোকো-গ্লুকোসাইড ও সোডিয়াম কোকয়েল আইসেথিওনেটের মতো মৃদু ক্লিনজিং উপাদান সালফেটের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুষ্ক বা ক্ষতিগ্রস্ত চুলের জন্য তেল, সিরামাইড বা শিয়া বাটারযুক্ত ফর্মুলাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত চুলের জন্য কোন শ্যাম্পু সবচেয়ে উপযোগী, তা নির্ভর করে ব্যক্তির মাথার ত্বক ও চুলের অবস্থার ওপর। তাই শুধু ট্রেন্ড অনুসরণ না করে উপাদান তালিকা দেখে এবং নিজের চুলে কোনটি ভালো মানায় তা বুঝে পণ্য বেছে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।











































