সংগৃহীত ছবি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে প্রতিবার বাইরে যাওয়া বা কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আগে নতুন পোশাক পরার এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। একই পোশাকে একাধিকবার ছবি প্রকাশ করতে অনেকেই সংকোচ বোধ করেন।বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে প্রতিবার নতুন পোশাকে নিজেকে উপস্থাপনের প্রবণতা বাড়ছে। তবে ফ্যাশন মানেই প্রতিবার নতুন পোশাক পরা নয়। বরং একই পোশাক বারবার পরেও স্টাইলিশ থাকা সম্ভব।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যদের নতুন পোশাক, অনুষ্ঠান ও সাজসজ্জার ছবি দেখতে দেখতে অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিক সামাজিক প্রত্যাশা হিসেবে ধরে নিতে শুরু করেন।ফলে একই পোশাক পরলে অন্যরা কী ভাববে, তা নিয়ে তৈরি হয় অস্বস্তি।
পোশাক নিয়ে অযথা চাপ কেন
প্রতিবেদনে মনোবিজ্ঞানী দিব্যা জি বলেন, অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করার প্রবণতা থেকেই পোশাক নিয়ে এই মানসিক চাপ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত নতুন পোশাকে অন্যদের ছবি দেখতে দেখতে অনেকে মনে করেন, প্রতিবার নতুন পোশাক পরাই যেন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার একটি শর্ত।
এর প্রভাব পড়তে পারে নিজের চেহারা ও আত্মবিশ্বাস সম্পর্কে ধারণার ওপর।কেউ কেউ ভাবতে শুরু করেন, নতুন পোশাক পরলে তাঁকে আরো আকর্ষণীয়, ব্যতিক্রমী বা গ্রহণযোগ্য মনে হবে। একই পোশাক আবার পরলে অন্যরা তাকে কিভাবে দেখবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়।
তবে পোশাক দিয়ে মানুষের ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস কিংবা সাফল্য বিচার করা যায় না। পোশাক ব্যক্তিগত রুচি প্রকাশের একটি মাধ্যম মাত্র। একজন মানুষের প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কাজের ওপর, তিনি কী পরছেন তার ওপর নয়।
একই পোশাকে আত্মবিশ্বাসী হবেন যেভাবে
একই পোশাক বারবার পরার অভ্যাস নিজের চেহারা ও পছন্দ সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। অন্যের মন্তব্যের ভয় না করে পোশাকটি আরামদায়ক কি না, নিজের রুচির সঙ্গে মানানসই কি না এবং ব্যবহারিক কি না—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
একই পোশাকের সঙ্গে ভিন্ন অনুষঙ্গ যোগ করেও সাজে পরিবর্তন আনা যায়। যেমন, নতুন জুতা, ব্যাগ, স্কার্ফ বা গয়না ব্যবহার করে পরিচিত পোশাকেও আলাদা লুক তৈরি করা সম্ভব। আবার কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পছন্দের পোশাকটি পরা যেতে পারে।
মনোবিজ্ঞানী দিব্যা জি বলেন, প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য নতুন পোশাক কেনার প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দের পোশাক বারবার পরা কিংবা সামান্য পরিবর্তন করে ব্যবহার করাও আত্মবিশ্বাসী স্টাইলের প্রকাশ হতে পারে। এটি সচেতনভাবে কেনাকাটা ও ভোগের অভ্যাস গড়ে তুলতেও সহায়তা করে।
শিশুদেরও শেখাতে হবে পোশাকের বাইরের মূল্যবোধ
পোশাক নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে পরিবার, বন্ধু, শিক্ষক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নির্মাতা এবং অন্যান্য পরিচিত ব্যক্তির প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রশংসা না করে তাদের ব্যক্তিত্ব, সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করা উচিত।
এতে শিশুরা বুঝতে শেখে, নতুন পোশাক বা বাহ্যিক সাজসজ্জাই মানুষের যোগ্যতা ও পরিচয়ের একমাত্র মাপকাঠি নয়।
উল্লেখ্য, একই পোশাক একাধিকবার পরার জন্য কারো কাছে কৈফিয়ত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ফ্যাশনের আনন্দ উপভোগ করতে নতুন পোশাকের প্রতিযোগিতায় নামতে হবে না। নিজের পছন্দ, স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাসই হতে পারে ব্যক্তিগত স্টাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।










































