ছবি : পিন্টারেস্ট
পোষা বিড়ালকে অনেকেই পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসেন। মালিকের কোলে বসা, গা ঘেঁষে থাকা কিংবা আদর করার সময় বিড়ালের হালকা কামড় দেওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক নয়।তবে কখনো কখনো আদর করার সময়, খেলার ছলে কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই বিড়াল মালিককে কামড়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিড়াল কেন এমন আচরণ করে? মালিককে কামড়ানোর অর্থই বা কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিড়ালের কামড়ানোর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কখনো এটি স্বাভাবিক আচরণের অংশ, আবার কখনো ভয়, অস্বস্তি, মানসিক চাপ কিংবা শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই বিড়াল কখন, কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে কামড়াচ্ছে, তা লক্ষ করা জরুরি।
আদর করার সময় কামড়ালে কী বোঝায়
অনেক বিড়াল মালিকের কাছ থেকে আদর পেতে পছন্দ করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে মাথা, পিঠ কিংবা শরীরের অন্য অংশে হাত বুলিয়ে দিলে কোনো কোনো বিড়াল বিরক্ত হয়ে যেতে পারে। প্রথমে শান্ত থাকলেও একপর্যায়ে তারা কামড় দিয়ে নিজেদের অস্বস্তি প্রকাশ করে।
এ ধরনের কামড়ের আগে বিড়াল লেজ নাড়াতে পারে, কান পেছনের দিকে সরিয়ে নিতে পারে, শরীর শক্ত করে রাখতে পারে কিংবা আদর করা ব্যক্তির হাতের দিকে ঘুরে তাকাতে পারে।এসব সংকেত দেখলে বিড়ালকে কিছুটা সময় দেওয়া ভালো।
ভালোবাসা প্রকাশ করতেও কি কামড়ায়
কিছু বিড়াল আদর করার সময় বা মালিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে হালকা করে কামড় দেয়। একে অনেক সময় ‘লাভ বাইট’ বলা হয়। তবে সব হালকা কামড় যে ভালোবাসার প্রকাশ, তা নয়। বিড়াল খেলতে চাইলে, উত্তেজিত হলে কিংবা আদর বন্ধ করতে চাইলে একই ধরনের আচরণ করতে পারে।
তাই শুধু কামড়ানোর ধরন দেখে বিড়াল ভালোবাসা প্রকাশ করছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তার সামগ্রিক আচরণ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।

খেলার ছলে কামড়ানোর কারণ
বিশেষ করে ছোট বিড়াল খেলতে গিয়ে মালিকের হাত, আঙুল বা পায়ে কামড় দিতে পারে। বিড়ালের স্বাভাবিক শিকার ধরার প্রবৃত্তির সঙ্গে এ আচরণের সম্পর্ক রয়েছে। হাত দিয়ে সরাসরি খেলালে বিড়াল হাতকে খেলনার অংশ হিসেবে ভাবতে শিখতে পারে। ফলে বড় হওয়ার পরও এ অভ্যাস থেকে যেতে পারে।
এটি কমাতে হাত দিয়ে খেলানোর পরিবর্তে খেলনা ব্যবহার করা যেতে পারে। কামড়াতে শুরু করলে উত্তেজিত না হয়ে খেলা থামিয়ে দেওয়া এবং বিড়ালকে শান্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়া ভালো।
ভয় বা অস্বস্তি থেকে কামড়াতে পারে
বিড়াল ভয় পেলে বা নিজেকে বিপদে মনে করলে আত্মরক্ষার জন্য কামড়াতে পারে। অপরিচিত মানুষের উপস্থিতি, হঠাৎ জোরে শব্দ, জোর করে কোলে নেওয়া কিংবা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আটকে রাখার কারণে এমন আচরণ দেখা দিতে পারে।
এ ক্ষেত্রে বিড়ালকে ধমক দেওয়া, মারধর করা বা জোর করে কাছে টানার পরিবর্তে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। বিড়ালের সঙ্গে ধীরে ধীরে এবং তার স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী যোগাযোগ গড়ে তোলা ভালো।
হঠাৎ মালিককে কামড়ানো শুরু করলে
আগে শান্ত থাকা বিড়াল হঠাৎ কামড়াতে শুরু করলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। শরীরের কোনো অংশে ব্যথা, আঘাত কিংবা অসুস্থতা থাকলে স্পর্শের কারণে বিড়াল আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে। এ ছাড়া পরিবেশের পরিবর্তন, নতুন প্রাণী বা মানুষের উপস্থিতি এবং মানসিক চাপও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
কামড়ানোর আচরণ হঠাৎ বেড়ে গেলে, নির্দিষ্ট জায়গায় হাত দিলেই কামড়ালে কিংবা খাওয়া-দাওয়া ও চলাফেরায় পরিবর্তন দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মালিককেই কেন কামড়ায়
বিড়াল সাধারণত পরিচিত মানুষের সঙ্গে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী আচরণ করে। মালিকের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর কারণে তার সামনে খেলার ছলে কামড়ানো, বিরক্তি প্রকাশ করা কিংবা মনোযোগ চাওয়ার আচরণ দেখা যেতে পারে। আবার মালিক যদি বারবার এমন আচরণে সাড়া দেন, তাহলে বিড়াল সেটিকে মনোযোগ পাওয়ার উপায় হিসেবেও শিখে নিতে পারে।
তবে মালিককে কামড়ানোর অর্থ এই নয় যে বিড়াল তাকে অপছন্দ করে। একইভাবে, কামড়ানোকে ভালোবাসার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবেও ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিড়াল কামড়ালে কী করবেন
বিড়াল কামড়ালে প্রথমে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। বিড়ালকে জোর করে ধরে রাখা বা শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে শান্তভাবে দূরে সরে যাওয়ার সুযোগ দিন। ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে কামড়াচ্ছে, তা লক্ষ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আচরণে পরিবর্তন আনুন।
কামড়ে চামড়া কেটে গেলে ক্ষতস্থান অবিলম্বে সাবান ও প্রবাহিত পানি দিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পোষা বিড়াল হলেও কামড়ের ক্ষত থেকে সংক্রমণ হতে পারে। পাশাপাশি বিড়ালের টিকা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসক জলাতঙ্কের টিকা, ইমিউনোগ্লোবুলিন বা টিটেনাস প্রতিরোধের প্রয়োজন আছে কি না, তা নির্ধারণ করবেন।
মনে রাখতে হবে, বিড়ালের কামড় কখনো স্বাভাবিক খেলার আচরণ, কখনো অস্বস্তির সংকেত, আবার কখনো শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই কামড়ানোর পরিস্থিতি বোঝার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা ও বিড়ালের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।








































