অ্যাশেজে জনসনের কথাই যেন মনে করাচ্ছেন স্টার্ক

সংগৃহীত ছবি

কুইন্সল্যান্ডে রোদেলা ছুটির দিনে যখন পর্যটকেরা সাউথ বারনেটের ওয়াইনারিগুলোতে ভিড় জমিয়েছে, তখন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটভক্তরা চোখ রেখেছিল ব্রিসবেনের গ্যাবায়। কারণ, সত্যিকারের ‘প্রিমিয়াম ভিনটেজ’—মিচেল স্টার্ক যে সেখানে ব্যাট-বল হাতে ইংল্যান্ডকে ছিন্নভিন্ন করছিলেন। 

৩৬ বছরে পা দেওয়ার ঠিক আগে স্টার্ক যেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় যৌবন কাটাচ্ছেন। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়ে (৬-৭৫) ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দেন তিনি।

আর তারপর ব্যাট হাতে নেমে যেভাবে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর চেপে বসলেন, তাতে প্রতিপক্ষের বাকি আশা-ভরসাও উড়ে গেল বাতাসে।

স্টার্ক যখন নামেন, অস্ট্রেলিয়ার লিড ছিল মাত্র ৪৯। কিন্তু স্টার্কের ১৪১ বলের ধীরস্থির ৭৭ রানের ম্যারাথন ইনিংসে সেই লিড এক লাফে পৌঁছে যায় ১৫৭তে। ইংল্যান্ড তখন খেলা নয়, বাঁচার পথ খুঁজছে।

শর্ট লেন্থের বলে ধৈর্য, ফুল লেন্থের বল পেলেই আঘাত, ঠিক এমনই নিখুঁত পরিকল্পনায় সাজান তার ইনিংস। ফুলার লেংথে তার স্ট্রাইকরেট ছুঁয়েছে ২০০, যা ইংলিশ পেসারদের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো।

বেন স্টোকস শেষ বিকেলে তাকে প্যাভিলিয়নে ফেরালেও তখন আর কিছু করার ছিল না। স্টার্কের ব্যাটে-বলে গড়া ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে থামে ৫১১ রানে, জমা হয় ১৭৭ রানের বিশাল লিড।

এ পথে গড়েন অনন্য কীর্তি—১৯৬৩ সালের পর মাত্র পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে অ্যাশেজে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট আর দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধশতক করলেন স্টার্ক। এর আগে ২০১৩-১৪ তে এক ভয়ংকর সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এটি করেছিলেন কিংবদন্তি মিচেল জনসন ।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালাস্টার কুকও স্বীকার করতে বাধ্য, ‘স্টার্ক বলে ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দিয়েছেন, এখন ব্যাটেও হৃদযন্ত্র বন্ধ করে দিচ্ছেন আমাদের।’

আরও ভয়ংকর খবর? স্টার্কের হাতে এখন আবার গোলাপি বল—আর লক্ষ্য ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা জো রুটকে ফেরান মাত্র ১৫ রানে।

শেষ দিকে স্টার্ক ফের আঘাত হানেন ইংল্যান্ড শিবিরে। মাত্র চার রানে ফাঁদে ফেলেন জেমি স্মিথকে। 

অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত পেস ত্রয়ী প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের অনুপস্থিতিতে পুরো দায়িত্ব নিতে হয়েছে স্টার্ককে। ব্রিসবেনে নাথান লায়ন বাদ পড়ায় চাপ আরো বেড়েছিল। কিন্তু স্টার্ক চাপে ভেঙে পড়েননি, বরং হয়ে উঠেছেন আরও হিংস্র।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, স্টার্কের বোলিং যেন হুবহু মনে করিয়ে দিচ্ছে মিচেল জনসনের ২০১৩–১৪ অ্যাশেজ। তীব্র গতি, ধারালো লাইন, আর চাপের মুহূর্তে অতিরিক্ত কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা—সবই মিলছে।

তার লম্বা ব্যাটিংও ইংল্যান্ডের বিপদ বাড়িয়েছে। স্টার্ক ইনিংসে টেনে নেওয়ায় ইংল্যান্ডকে ব্যাটিং শুরু করতে হয়েছে আলো–অন্ধকারের সীমান্তে, যা ডে–নাইট টেস্টে ব্যাটসম্যানদের জন্য বিষের মতো। 

অ্যাশেজে ভালো শুরু ইংল্যান্ডের বাঁচার শেষ ভরসা ছিল। কিন্তু স্টার্ক সেই আশাটুকুও গ্যাবার ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন—ব্যাটে, বলে, আর উপস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তে।

LEAVE A REPLY