সংগৃহীত ছবি
চার বছর আগে কাতারের মরুভূমিতে যখন সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেছিলেন লিওনেল মেসি, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন ওটাই মহাতারকার শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সের হিসাব-নিকাশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৩৯ বছর বয়সে উত্তর আমেরিকার মাটিতে আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে তোলেন এই ফুটবল যাদুকর।স্পেনের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া হলেও পুরো টুর্নামেন্টে সবুজ গালিচায় আরও একবার নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন মেসি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ যখন বসবে, তখন মেসির বয়স হবে ৪৩। ওই বয়সে বিশ্বমঞ্চে মহাতারকাকে দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ বললেই চলে। তবে ভক্তদের আশা হারানো মানা! কিংবদন্তি মেসিকে হয়তো পাওয়া যাবে না, কিন্তু তার জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো মেসিকে আকাশি-নীল জার্সিতে দেখার রঙিন স্বপ্ন এখন থেকেই বুনতে শুরু করেছেন কোটি আর্জেন্টাইন সমর্থক।
বর্তমানে ১৩ বছরে পা রাখা থিয়াগোকে ঘিরে নেটদুনিয়ায় একটি বেশ চমকপ্রদ গাণিতিক হিসাব ঘুরে বেড়াচ্ছে। ২০৩০ সালের ঐতিহাসিক শতবর্ষপূর্তি বিশ্বকাপে থিয়াগোর বয়স হবে ১৮ বছর। সেই হিসেবে, তরুণ এই ফুটবলার যদি তার সামর্থ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে দ্রুততম সময়ে পেশাদার ফুটবলে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তবে বাবার সঙ্গে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার অভাবনীয় দৃশ্যটি বাস্তবে রূপ নেওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবলের পাঠ নিচ্ছে থিয়াগো।ইতোমধ্যে দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও উঁচিয়ে ধরেছে সে। ফ্লোরিডার ক্লাবে থিয়াগোর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন ভক্তরা, যারা চান ‘মেসি’ রাজত্ব ফুটবলের আঙিনায় চিরস্থায়ী হোক।
জন্ম সূত্রে থিয়াগো স্পেনের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রেখেছে সে। একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জানিয়েছে, স্পেনের আহ্বান থাকলেও বাবার দেখানো পথ ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলাই তার একমাত্র স্বপ্ন। জাতীয় দলের হয়ে বাবার দেখানো পথে চলার এই ইচ্ছাই এখন ২০৩০ বিশ্বকাপকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ছড়ানো আর্জেন্টাইন ভক্তদের প্রধান আশার জ্বালানি।
মেসি পরিবারে অবশ্য ফুটবলের চর্চা কেবল থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়; তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও ফুটবলের প্রাথমিক সিঁড়িতে নিজেদের মেধার জানান দিচ্ছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষক ও ভক্তরা একবাক্যে মানেন, বাবার অর্জিত হিমালয়সম উচ্চতা স্পর্শ করা যেকোনো সন্তানের জন্যই কঠিন পরীক্ষা। তাই তরুণ থিয়াগোর ওপর শুরুতেই কোনো অযাচিত চাপ তৈরি না করে, ভক্তদের কেবল এই সম্ভাবনাটুকু উপভোগ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।











































