‘ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাপ নেই। তবুও লম্বা লাইন। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছিলাম। ৫ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ৮০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। জানি না এ গ্যাসে কত সময় চলবে। শেষ হলে আবার লাইনে দাঁড়াব। নইলে সংসার চলবে না।’
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে গাবতলীর এসপি ফিলিং স্টেশনের সামনে এভাবে নিজের ভোগান্তির কথা প্রকাশ করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আব্দুল খালেক। তার দাবি-গ্যাস সংকট সমাধান এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নইলে পরিবার নিয়ে কষ্টে পড়বেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারচালকরা।
এছাড়াও এদিন গাবতলীর খালেক ফিলিং স্টেশন, আল-মাহমুদ ফিলিং স্টেশন, সোহরাব সার্ভিস স্টেশন, মোহনা ফিলিং স্টেশন, শাহনাজ ফিলিং স্টেশন ও ডেইনসো ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস এবং সিএনজি অটোর লম্বা লাইন দেখা যায়। মিরপুর-১২, কালশী, মিরপুর-১০ ও সেনপাড়া এলাকার সিএনজি স্টেশনে ছিল লম্বা লাইন।
প্রাইভেটকারচালক খলিল বলেন, আমি কাজীপাড়ায় থাকি। বাসার পাশের সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। গাবতলীর সব স্টেশনে লম্বা লাইন।
রামপুরা, হাতিরঝিল, মগবাজার, শাহবাগ ও নিউমার্কেট এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোয় ছিল দীর্ঘ লাইন।
শাহবাগে সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষা করা চালক আতিকুর রহমান বলেন, ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। কয়েক ঘণ্টা হয়ে গেছে, এখনো গ্যাস পাইনি। এভাবে সারা দিন চলে গেলে আজ কোনো আয় হবে না।
যাত্রাবাড়ী এলাকার সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন কোম্পানি লিমিটেড, জয়কালি মন্দির রোডের এইচএস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এলপিজি স্টেশনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।
ডেমরার রাসেল ফিলিং ও সিএনজি স্টেশনে এবং হাজী সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন ছিল।
উত্তরার আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেতসহ বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। স্টেশনে গ্যাসের চাপ কম এবং সরবরাহ বৃদ্ধি না হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন মানুষ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেকের ভাগ্যে মিলেছে ৭০-৮০ টাকার গ্যাস।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক তুহিন বলেন, সংকট দিনদিন শুধু বাড়ছে। পরিস্থিতি ঠিক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। এভাবে তো জীবন চলতে পারে না। উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় মঙ্গলবারও বেশকিছু ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছিল।
শুধু রাজধানীর ফিলিং স্টেশন নয়, বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক এলাকায় জ্বলেনি চুলার আগুন। বিকল্প হিসাবে বৈদ্যুতিক চুলা ও সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করছেন অনেকে। মতিঝিল, ফকিরাপুল, জয়কালী মন্দির, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ীর বিবিরবাগিচা, শেখদী, গোবিন্দপুর, মাতুয়াইল, কদমতলীর শনিরআখড়া, পলাশপুর, জনতাবাগ, স্মৃতিধারা, জুরাইন, বাগানবাড়ি, মেরাজনগর, মোহামদবাগ, রায়েরবাগ এলাকায় ব্যাপক গ্যাস সংকট ছিল। দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, বাসায় গ্যাস নেই। ফলে খাবারের চরম সমস্যা হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে বাচ্চাদের নিয়ে। তাদের বাইরের খাবার খাওয়ানোর পর পেটে নানা পীড়া দেখা দিয়েছে।
সেগুনবাগিচা, বিজয় সরণি, ফকিরাপুল, শান্তিবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর, কালশী এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে।
সেগুনবাগিচার বাসিন্দা শফিক জানান, সংকটের কারণে বাসায় রান্নাবান্না ঠিকভাবে হচ্ছে না। বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে সংসারের খরচ বেড়েছে।









































