ঘন ঘন মাথা ব্যথা হচ্ছে, এটা কি জটিল রোগের ইঙ্গিত?

সংগৃহীত ছবি

সারা দিন কাজ শেষে বাসায় ফিরলেন কিন্তু একটু শান্তি নেই মাথা ব্যথায় কষ্ট করছেন। কিংবা দেখা যায় অফিসে বসেও মাথা ব্যথায় কাজ করতে পারবেন না।অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায় মাথা ব্যথা নিয়মিত হয়। আর নিয়মিত মাথা ব্যথা দেখা দিলেই মনে নানা চিন্তা দেখা দেয়। প্রথমেই মনে হয় তাহলে বুঝি বড় কোনো রোগ হয়েছে তাই এই জটিলতা। নিয়মিত মাথা ব্যথার কারণ নিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসে কথা বলেছেন নিউরোলজিস্ট ডা. অতমপ্রীত সিং। 

এই চিকিৎসক জানান, নিয়মিত মাথা ব্যথা মানেই যে জটিল রোগ বিষয়টা সব সময় এমন নয়। বরং বর্তমান জীবনযাত্রার বেশ কিছু অভ্যাস নিয়মিত মাথা ব্যথার প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের মাইগ্রেনের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এসব বিষয় আরও গুরুত্বপূর্ণ।

  • যেসব অভ্যাস মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে

নিউরোলজিস্ট ডা. অতমপ্রীত সিং বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছেন।এবং এই অভ্যাসগুলোর বিষয়ে তিনি সতর্ক করেছেন। এগুলো হল—

  • ঘুমের সময়ের অনিয়ম

রাতে দেরি করে ঘুমানো, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া কিংবা প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস মাথা ব্যথার অন্যতম সাধারণ কারণ হতে পারে। ডা. অতমপ্রীত সিংয়ের মতে, ঘুমের অনিয়ম মস্তিষ্কের ব্যথা প্রক্রিয়াকরণের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে বিশেষ করে মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাথা ব্যথা আরও ঘন ঘন হতে পারে। সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে কম ঘুমিয়ে ছুটির দিনে বেশি ঘুমিয়ে নেয়া এই ‘ঘুম পুষিয়ে নেওয়ার’ অভ্যাসও সব সময় সপ্তাহজুড়ে তৈরি হওয়া ঘুমের অনিয়ম পূরণ করতে পারে না।

  • সারাক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহার 

স্মার্টফোন, কম্পিউটার কিংবা অন্য ডিভাইস ছাড়া এখনকার জীবন কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা মাথা ব্যথার আরেকটি কারণ হতে পারে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারে চোখে চাপ পড়ার পাশাপাশি একই ভঙ্গিতে বসে থাকার কারণে ঘাড় ও কাঁধের পেশিতে টান তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাদের মধ্যে এ কারণে টেনশন হেডেক বা চাপজনিত মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে। ডা. সিংয়ের পরামর্শ, দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা ফোন ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং বসার ভঙ্গির দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

  • খাবারের সময় এলোমেলো

ব্যস্ততার কারণে অনেকেই সকালের নাশতা বাদ দেন, দুপুরের খাবার দেরিতে খান কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়াও অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, খাবার বাদ দেওয়া, খাবারে দীর্ঘ বিরতি, শরীরে পানির ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু মানুষের মাথা ব্যথার ট্রিগার হতে পারে। আবার নিয়মিত বেশি ক্যাফেইন গ্রহণের পর হঠাৎ তা বন্ধ করলেও মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে। তাই প্রতিদিনের চা-কফির পরিমাণেও ভারসাম্য রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

  • মাথা ব্যথা কমাতে 

বারবার মাথা ব্যথা হলে নিজের কোন অভ্যাসের পর সমস্যা বাড়ছে, তা খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য কয়েক দিন হেডেক ডায়েরি রাখা যেতে পারে। কখন মাথা ব্যথা হয়েছে, তার আগে কী খেয়েছেন, কতক্ষণ ঘুমিয়েছেন, কত সময় স্ক্রিন ব্যবহার করেছেন বা মানসিক চাপ ছিল কি না এসব লিখে রাখলে সম্ভাব্য ট্রিগার শনাক্ত করা সহজ হতে পারে।

তবে মাথা ব্যথা যদি প্রায় প্রতিদিন হয়, ক্রমে বাড়তে থাকে, খুব তীব্র হয় বা নতুন ধরনের মাথা ব্যথা শুরু হয়, তাহলে শুধু জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

LEAVE A REPLY