তানজিন তিশার বিরুদ্ধে তদন্তে সিআইডি

সংগৃহীত ছবি

অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া চৌধুরীর করা প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্ত করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছিলেন বাদী।

রবিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদীপক্ষের নারাজির আবেদন মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি জানান, মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া চৌধুরী ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলাটি করেন। এর আগে মামলাটির তদন্তভার পিবিআইকে দিয়েছিলেন আদালত।

পিবিআই গত বছরের ২৫ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।একই সঙ্গে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তবে পিবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে এর বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। পরে সেই আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি সিআইডির কাছে অধিকতর তদন্তের জন্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

Tanjin Tisha | Bangladeshi Actress Tanjin Tisha allegedly harassed  co-actress Saima othoi during shoot dgtl - Anandabazar

যে শাড়ি নিয়ে মামলার সূত্রপাত

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশানের ১২৭ নম্বর সড়কে সানায়া চৌধুরীর একটি ফ্যাশন হাউস ও স্টুডিও রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তার কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেন তানজিন তিশা।অনুষ্ঠান শেষে পরদিন শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন সানায়া।

অভিযোগে বলা হয়, শাড়িটি ফেরত চেয়ে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর তানজিন তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান সানায়া। এ নিয়ে অভিনেত্রী তাকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৮ মার্চ দুটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তানজিন তিশার সঙ্গে দেখা হলে আবারও শাড়িটি ফেরত চান সানায়া। তবে তখনো শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

এ ছাড়া গত বছরের ১০ নভেম্বর মেসেঞ্জারে ফোন করে তানজিন তিশা তাকে মামলা করার এবং সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সানায়া। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

মামলাটিতে আগে পিবিআইয়ের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এখন বাদীর নারাজি আবেদনের পর সিআইডির অধিকতর তদন্তে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কী উঠে আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।

LEAVE A REPLY