টাইগারের পর এবার কি নিশানায় ইমরান হাশমি?

সংগৃহীত ছবি

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে বি টাউনে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন নতুন তথ্য।এবার তদন্তকারীদের দাবি, টাইগারের ওপর হামলার আগে অভিনেতা ইমরান হাশমির বাড়িতে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল অভিযুক্তদের। এ ছাড়া সালমান খান ও আমির খানের বাড়ির আশপাশেও রেকি চালানোর চেষ্টা করেছিল তারা বলে অভিযোগ।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর টাইগারের ওপর হামলার আগে ইমরান হাশমির বাড়ির অবস্থান খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল হামলাকারীদের। কিন্তু খোঁজখবর করেও অভিনেতার বাড়ির সন্ধান পায়নি তারা।পরে নিজেদের ‘হ্যান্ডলার’দের বিষয়টি জানায় অভিযুক্তরা।

এ বিষয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা হিন্দুস্তান টাইমসকে বলেন, ‘সালমান বহুদিন ধরেই লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর নিশানায় রয়েছেন। এবার তারা আমিরের বাড়িতেও নজর রাখার চেষ্টায় ছিল। কিন্তু আমির যে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে চলে গিয়েছেন, তা তারা জানত না।ফলে তার বাড়িও ওরা খুঁজে পায়নি।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, এরপর ইমরানের বাড়িতে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয় অভিযুক্তদের। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে খোঁজ নিয়েও বাড়ির সন্ধান না পেয়ে তারা বিষয়টি নিজেদের ‘হ্যান্ডলার’দের জানায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টাইগারের ভিডিও দেখে তাকে লক্ষ্যবস্তু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘পরে সমাজমাধ্যমে টাইগারের রিলস দেখে তাকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সমাজমাধ্যম থেকেই তারা জানতে পারে, প্রতি রবিবার ফুটবল খেলতে জুহুর পুষ্প নারসি গ্রাউন্ডে যান টাইগার।’

এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চার অভিযুক্তকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। তারা হলেন রাধা বর্মা (২১), ববিতা রাও (২১), কুণাল জামিনসিং (২১) ও সুমিত সরোলিয়া (১৯)। তাদের মধ্যে দুজনকে দিল্লির রেলস্টেশন থেকে এবং বাকি দুজনকে হরিয়ানার সোনিপত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালত তাদের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, এই চারজনই হামলাকারীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, ধৃত কুণাল জামিনসিংয়ের সঙ্গে বিষ্ণোই গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগ ছিল। টাইগারের ওপর হামলার দায়ও স্বীকার করেছিলেন অনিল। পুলিশের অভিযোগ, কুণাল রাধা বর্মার হাতে একটি পিস্তল তুলে দিয়েছিলেন। ১৭ অক্টোবর রাধা ও ববিতা মুম্বাইয়ের দাদরে পৌঁছানোর পর তাদের কাছ থেকে অস্ত্রভর্তি ব্যাগটি এক নাবালক নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ আদালতে আরো জানিয়েছে, হামলার পর অস্ত্রটি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শুটারদের। হামলা শেষ হওয়ার পর দ্রুত অস্ত্র সংগ্রহ করে নেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল তাদের।

গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বিএমডব্লিউ গাড়িতে বের হচ্ছিলেন টাইগার। চালকের পাশের আসনে বসে ভক্তদের দিকে হাত নাড়ছিলেন অভিনেতা। গাড়িটি ক্লাবের ফটক পেরোনোর সময় এক যুবক সামনে এসে উইন্ডস্ক্রিন লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। এরপর আরেক যুবক এগিয়ে এসে টাইগারের পাশের জানালা লক্ষ্য করে গুলি চালান। পরে দুজনই তৃতীয় এক ব্যক্তির মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর টাইগার দেখতে পান, তার গাড়ির চালক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। দেরি না করে আসন বদলে নিজেই গাড়ি চালিয়ে আহত চালককে হাসপাতালে নিয়ে যান অভিনেতা।

এ হামলার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিল বিষ্ণোই গোষ্ঠী। ওই পোস্টে অনিল পণ্ডিত ও অনিল হরমন সন্ধু হামলার নেপথ্যে থাকার কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিষ্ণোই-ঘনিষ্ঠ বলেও দাবি করা হয়েছে।

হিন্দিতে লেখা ওই পোস্টে বলা হয়, ‘আমরা ওকে ফোন করেছিলাম, বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উনি বোঝেননি। তাই আজ, আমরা সবটা তাকে ব্যাখ্যা করব বলে সিদ্ধান্ত নিই। মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যে বা যারা আমাদের কথা শুনবেন না এবং সালমান খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তারাই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। দেখতে থাকুন।’

তদন্তে ইমরান হাশমিসহ আরও কয়েকজন বলিউড তারকার নাম উঠে আসার খবর সামনে আসায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গনে। তবে তাদের ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY