থাইল্যান্ডে আটক ২ উইঘুরকে চীনে ফেরত না পাঠানোর আহ্বান এইচআরডব্লিউর

নির্যাতন ও চরম অত্যাচারের ভয়ে চীনে ফিরে না যাওয়ার জন্য থাই কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন থাইল্যান্ডে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দি থাকা দুই উইঘুর মুসলিম। 

গত অক্টোবরের শেষের দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাদের বেইজিংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে—মানবাধিকার কর্মী ও থাই রাজনীতিবিদদের এমন সতর্কবার্তার মাঝেই এই তথ্য সামনে এলো।

থাই কর্তৃপক্ষের হাতে আটক দুই উইঘুর মুসলিমকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত না পাঠানোর জন্য থাইল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, চীনে ফেরত পাঠানো হলে এই দুই ব্যক্তি মারাত্মক নির্যাতন, বলপূর্বক অন্তর্ধান এবং অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম ঝুঁকিতে পড়বেন। সুরক্ষা সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে এই দুই উইঘুর পুরুষের নাম প্রকাশ করা হয়নি। 

রাজক্ষমা পাওয়ার পর কারাগার থেকে সম্প্রতি তাদেরকে ব্যাংককের ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়েছে।একে প্রধানত চীনে তাদের ফেরত পাঠানোর পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

থাই সরকারের নীতি ও আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেন পেয়ারসন বলেন, ‌‘থাইল্যান্ডের বিগত সরকারগুলো উইঘুরদের বছরের পর বছর ধরে অমানবিক পরিস্থিতিতে আটকে রেখেছে এবং পরবর্তীতে বেইজিংয়ের দাবি মেনে তাদের চীনে ফেরত পাঠিয়েছে, যেখানে তারা বলপূর্বক অন্তর্ধানের শিকার হয়েছেন।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের উচিত জোরপূর্বক এই প্রত্যাবাসন বন্ধ করা এবং এই দুই উইঘুর পুরুষকে কোনো নিরাপদ তৃতীয় দেশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া।’

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুই উইঘুর নাগরিক ২০১৪ সাল থেকে থাই কর্তৃপক্ষের হেফাজতে অবরুদ্ধ রয়েছেন।আটক করার সময় তাদের একজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইমিগ্রেশন ডিটেনশন থেকে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তারা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। নির্ধারিত সাত বছরের সাজার অধিকাংশ সময় পার করার পর রা রাজক্ষমা পান। আ

এরপর গত ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে থাই কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যাংকক সেন্ট্রাল প্রিজন থেকে ব্যাংককের সুয়ান প্লু ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করে। 

এর আগে থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একটি সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছিলেন, গত আগস্টেই ব্যাংককস্থ চীনা দূতাবাস এই দুই ব্যক্তিকে বেইজিংয়ের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জোর দাবি জানিয়েছে।

থাইল্যান্ডের বর্তমান অভিবাসন আইন ও বিধি অনুযায়ী, দুই উইঘুর ব্যক্তি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্যাবাসনে আপত্তি না জানান এবং অন্য কোনো তৃতীয় দেশে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হয়, তবে তাদের চীনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। 

তবে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবীরা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে নিশ্চিত করেছেন, তারা ইতিমধ্যেই থাই কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ওই দুজন চীনে ফেরত যেতে সম্মত নন।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে এই ব্যক্তিদের শরণার্থী মর্যাদা নির্ধারণের জন্য তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা যোগাযোগের অনুমতি বারবার প্রত্যাখ্যান করে আসছে থাই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

LEAVE A REPLY