সংগৃহীত ছবি
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে নেওয়ার পর প্রথম বছরেই শতকোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে তিনি এই আয় করেছেন বলে জানা গেছে।যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে তিনি কোনও ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেননি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ২০২৫ সালের বাধ্যতামূলক আর্থিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
৯২৭ পৃষ্ঠার ওই আর্থিক প্রতিবেদনে ট্রাম্প জানিয়েছেন, দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগে চালু করা তার ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি বাবদ ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। যদিও চালুর পর থেকে ওই মিম কয়েনের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ ছাড়া তার দুই ছেলে এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ থেকে ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন ট্রাম্প। রিয়েল এস্টেট, ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বাইবেল, ঘড়ি এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি থেকেও তিনি কয়েক কোটি ডলার আয় করেছেন।
ট্রাম্পের আয়ের বড় অংশ এসেছে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ থেকে। এ প্রতিষ্ঠানের নিট আয়ের ৭৫ শতাংশ ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা পান।
যদিও একটা সময় ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির কড়া সমালোচক ছিলেন। তিনি বিটকয়েনকে ‘প্রতারণা’ এবং ‘ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে গত বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তার আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের প্রতিবেদনে তিনি ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন।
তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ট্রাম্প কোনো ব্যক্তিগত অর্থ অর্জন করেননি।হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব আনা কেলি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানীতে’ পরিণত করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবারের সদস্যরা কখনও স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সব সিদ্ধান্তই আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থে নেয়া হয়। যারা ভিন্ন দাবি করছেন, তারা গত এক দশক ধরে ডেমোক্র্যাট ও মূলধারার গণমাধ্যমের প্রচারিত একই পুরোনো ও ভিত্তিহীন বক্তব্যই পুনরাবৃত্তি করছেন।’
এদিকে বড় অঙ্কের ক্রিপ্টো আয় ছাড়াও প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, বিভিন্ন ডিজিটাল ওয়ালেটে থাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ বিক্রি করেও ট্রাম্প কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন।
পাশাপাশি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও তার গত বছরের আয়ের হিসাব এ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছেন। তিনি গত বছর মুক্তি পাওয়া ও তাকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করেছেন। এ ছাড়া অনলাইনে বিক্রি হওয়া ডিজিটাল ছবি বা এনএফটি (নন-ফাঞ্জিবল টোকেন) বিক্রিসংক্রান্ত আরেকটি চুক্তি থেকে তার আরও ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
ফোর্বসের হিসাবেও ট্রাম্পের সম্পদ বেড়েছে
ফোর্বস সাময়িকীর বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৬ বিলিয়ন (৬০০ কোটি) মার্কিন ডলার। ২০২৪ সালে এই সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স ট্রাম্পের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছে।










































