ম্যানচেস্টার সিটি এখন এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর দলের সফল কোচকে বিদায় জানিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করা কোনো সহজ কাজ নয়।তার ওপর আবার দলের ভেতরে চলছে ব্যাপক পুনর্গঠন।
২০২২-২৩ মৌসুমে সিটির ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ী দলের অন্যতম চার কাণ্ডারি, ম্যানুয়েল আকানজি, নাথান আকে, বের্নার্দো সিলভা ও জন স্টোনস চলতি গ্রীষ্মেই ক্লাব ছেড়েছেন। অন্যদিকে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং ১৭ বছর বয়সী প্রতিভাবান জেরোমি মঙ্গাকে দলে ভিড়িয়েছে ক্লাবটি।
এদিকে অধিনায়ক হিসেবে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পরপরই পিঠের অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হচ্ছেন দলের নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার রদ্রি।সিটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি থাকা এই ৩০ বছর বয়সী তারকাকে নিয়ে দলবদলের গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। কতদিন তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে তা স্পষ্ট নয়, তবে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নতুন কোচ এনজো মারেসকা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি রদ্রিকে দলে রাখতে চান।
কিন্তু স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ যখন রদ্রিকে ডেরায় ভেড়াতে উন্মুখ, তখন সিটি কী করবে? রদ্রি সুস্থ হওয়ার পর তাকে বিক্রি করে বড় অংকের অর্থ তুলবে, নাকি মারেসকার চাওড়াকেই অগ্রাধিকার দেবে? আর রদ্রি থাকুক বা যাক, নতুন কোচের অধীনে কেমন হবে সিটির মিডফিল্ড? এমন অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সিটি ভক্তদের মনে।
রদ্রিকে ধরে রাখার পরিকল্পনা সিটির সুস্পষ্ট হলেও যেকোনো পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পথ খোলা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।সেই লক্ষ্যেই অ্যান্ডারসনকে আনা হয়েছে এবং বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে নজর কাড়া ফরাসি লিগ আঁর ক্লাব লিলের ১৮ বছর বয়সী তরুণ আইয়ুব বুয়াদ্দিকেও রাডারে রেখেছে সিটি।
মারেসকার খেলার ধরণ বুঝতে হলে তার স্ট্র্যাটেজি জানা জরুরি। পেপ গার্দিওলার শিষ্য হওয়ার কারণে তিনি পজিশনাল প্লে-তে বিশ্বাসী এবং নিজের ফুটবল দর্শনকে দাবার সঙ্গে তুলনা করতে পছন্দ করেন। তার ভাষায়, ‘দাবা ও ফুটবলের মধ্যে দারুণ মিল আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক পজিশনিং ও কৌশল।কোচের মানসিকতা হওয়া উচিত একজন দাবাড়ুর মতো, পরিকল্পনা করা, প্রতিপক্ষের চাল বোঝা এবং ছকের ঘুঁটিগুলো সঠিক জায়গায় সাজানো।’
মারেসকার প্রধান কৌশল থাকে ৩-২-২-৩ ফরমেশনে বল পজিশন ধরে রেখে আক্রমণ সাজানো। রদ্রি সিটির চালিকাশক্তি হতে পারতেন কারণ তিনি খেলার গতি বুঝে যেকোনো পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন। বিশ্বকাপে দেখা গেছে, আইমেরিক লাপোর্তে যখন ওপরে উঠতেন, রদ্রি নামতেন সেন্ট্রাল ডিফেন্সে, আবার সুযোগ পেলেই আক্রমণে উঠে যেতেন।
২৩ বছর বয়সী অ্যান্ডারসন তার ক্যারিয়ারে অ্যাটাকিং থেকে শুরু করে মিডফিল্ডের প্রায় সব পজিশনেই খেলেছেন। রদ্রির পাশে খেলে অ্যান্ডারসন যেমন নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করতে পারবেন, তেমনি রদ্রিকেও ওপরে উঠে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দেবেন।
অন্যদিকে তরুণ বুয়াদ্দিকে দলে ভেড়ানো গেলে তিনি হতে পারেন ম্যান সিটির ট্রাম্প কার্ড। একাধারে হোল্ডিং মিডফিল্ড, রাইট-ব্যাক ও সেন্টার-ব্যাকে সমান পারদর্শী এই খেলোয়াড়। রক্ষণে বল দখলে তার দৃঢ়তা এবং পায়ে বল রেখে সাজানো পাসিং ডিফেন্স থেকে মিডফিল্ডে ওঠার ক্ষেত্রে জন স্টোনসের ভূমিকা মনে করিয়ে দেন তিনি।
রদ্রি থাকলে দলের নিয়ন্ত্রণ, পজিশনিংয়ের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিখুঁত ক্ষমতার কারণে সিটি নির্ভার থাকবে। তবে যদি তিনি ক্লাব ছাড়েনও, খেলোয়াড়দের নতুন পজিশনে খেলিয়ে সেরাটা বের করে নেওয়ার ক্ষেত্রে মারেসকার জুড়ি নেই। চেলসিতে থাকতে মোইসেস কাইসেদোকে রাইট-ব্যাক থেকে মিডফিল্ডে এনে সাফল্য পেয়েছেন তিনি, মার্ক কুকুরেয়াকে খেলিয়েছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে।








































