ছবি : রয়টার্স
ব্রিটিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান জিএসকে জানিয়েছে, তাদের হেপাটাইটিস বি রোগের নতুন ওষুধ বেপিরোভিরসেন জাপানে নিয়ন্ত্রক অনুমোদন পেয়েছে। একই সময়ে ক্যান্সারের ওষুধ ডোস্টারলিম্যাবকে মলদ্বারের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
জিএসকের জন্য দুটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মলদ্বারের ক্যানসারের একটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসায় ডোস্টারলিম্যাবের ব্যবহার আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জিএসকের বেপিরোভিরসেন ওষুধটি ‘হিবসাগো’ নামে বাজারজাত করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।ওষুধটি দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসার জন্য তৈরি করা হয়েছে। জিএসকের তৃতীয় ধাপের বড় পরীক্ষায় ওষুধটির কার্যকারিতা দেখা হয়েছে। ওই পরীক্ষায় বেপিরোভিরসেন ও প্রচলিত চিকিৎসা একসঙ্গে নেওয়া রোগীদের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ‘ফাংশনাল কিউর’ বা কার্যকর নিরাময় পাওয়া গেছে। অর্থাৎ চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রক্তে ভাইরাসের গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন না থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণে অনেক রোগীকেই দীর্ঘ সময়, এমনকি সারা জীবন, অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নিতে হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের চিকিৎসার পর দীর্ঘমেয়াদে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে তা রোগীদের জন্য বড় পরিবর্তন আনতে পারে। বেপিরোভিরসেন তিনভাবে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে। এটি ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় জেনেটিক উপাদান তৈরির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে রক্তে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের পৃষ্ঠের অ্যান্টিজেনের মাত্রা কমায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।
বিশ্বে ২৫ কোটির বেশি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি সংক্রমণে আক্রান্ত। জাপানেও প্রায় ১০ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বি লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। জিএসকের তথ্য অনুযায়ী, জাপানেই বেপিরোভিরসেনের জন্য প্রথমবারের মতো কোনো দেশে নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের আবেদন করা হয়েছিল। ওষুধটি জাপানে দ্রুত পর্যালোচনার জন্য ‘সেনকু’ মর্যাদাও পেয়েছিল। অন্যদিকে, জিএসকের ক্যান্সারের ওষুধ ডোস্টারলিম্যাবকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) মলদ্বারের ক্যানসারের সম্ভাব্য চিকিৎসা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা করছে।
ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রে ‘জেমপারলি’ নামে বাজারজাত হয়। জরায়ুর ভেতরের আবরণের ক্যান্সারের কয়েকটি নির্দিষ্ট ধরনের চিকিৎসায় এর ব্যবহার আগে থেকেই অনুমোদিত। জিএসকের চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, মলদ্বারের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে জেমপারলি নিয়ে করা পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হয়েছে। পরীক্ষায় এমন কিছু রোগী পাওয়া গেছে, যাদের চিকিৎসার এক বছর বা তার বেশি সময় পরও ক্যান্সারের দৃশ্যমান কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। জিএসকের তথ্য অনুযায়ী, এই ফলের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধটির নিয়ন্ত্রক পর্যালোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জেমপারলি এরই মধ্যে এফডিএর ‘ব্রেকথ্রু থেরাপি’ ও ‘ফাস্ট ট্র্যাক’—দুই ধরনের বিশেষ মর্যাদা পেয়েছে।
বেপিরোভিরসেন ও ডোস্টারলিম্যাব- দুটি ওষুধই জিএসকের নতুন ওষুধ তৈরির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ। হেপাটাইটিস বি ও ক্যান্সারের মতো বড় রোগের ক্ষেত্রে নতুন চিকিৎসা বাজারে আনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে ব্যবসা বাড়াতে চাইছে। জিএসকের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় বেপিরোভিরসেন ও মলদ্বারের ক্যানসারের চিকিৎসায় জেমপারলিকে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে বেপিরোভিরসেনের ক্ষেত্রে দেশভেদে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া আলাদা। জাপানে অনুমোদনের পরও অন্য দেশগুলোতে এর ব্যবহার শুরু করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডোস্টারলিম্যাবের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যালোচনা মানেই এখনই মলদ্বারের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ওষুধটি অনুমোদিত হয়ে যাওয়া নয়। বরং এটি দ্রুত সিদ্ধান্তের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক পর্যালোয়ার একটি ধাপ।











































