সংগৃহীত ছবি
বিকেলের নাশতায় গরম শিঙাড়ার লোভ সামলানো অনেকের জন্যই বেশ কঠিন। সম্প্রতি ভারতের একজন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ এই লোভ সামলাতে ১০ সেকেন্ডের একটি বিশেষ ‘শিঙাড়া-পরীক্ষা’র পরামর্শ দিয়েছেন।তবে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখা শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর করে না, এর পেছনে অনেক সামাজিক ও মানসিক কারণও জড়িয়ে থাকে।
‘শিঙাড়া-পরীক্ষা’ আসলে কী?
স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সুধীর কুমারের মতে, শিঙাড়ার দোকানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শিঙাড়ার বদলে চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি বেছে নেওয়া এবং দোকানের দিকে তাকিয়ে হেসে হেঁটে চলে আসাই হলো এই পরীক্ষা। ১০ দিনের মধ্যে কেউ ৯ দিন এভাবে লোভ সংবরণ করতে পারলে তাকে আত্মসংযমী বলা যায়। তার দাবি, এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়াতে পারলে গ্যাস্ট্রিক, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।এই পরীক্ষার কার্যকারিতা ও খাদ্যাভ্যাসের বৈজ্ঞানিক দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছু মূল পরামর্শ তুলে ধরেছেন। চলুন, জেনে নিই।
খাওয়ার আগে ১০ সেকেন্ডের বিরতি: পুষ্টিবিদ রিচা শর্মা জানান, খাবারের লোভ জাগলে তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত না নিয়ে ১০ সেকেন্ড থমকে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—শরীরে সত্যিই খাবারের প্রয়োজন আছে, নাকি এটা কেবল সাময়িক চোখের ক্ষুধা।
অপরাধবোধ এড়ানো: কোনো খাবারকে পুরোপুরি ‘ভালো’ বা ‘খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে নিষেধ করেন পুষ্টিবিদরা।মাসে এক-দুইবার শিঙাড়া খেলে স্বাস্থ্যের বড় কোনো ক্ষতি হয় না। বরং অতিরিক্ত কড়াকড়ি মানসিক চাপ ও অপরাধবোধ তৈরি করতে পারে।
পরিস্থিতি ও পরিবেশের ভূমিকা : মনোরোগ চিকিৎসক নবীন কুমার ধাগুড়ুর মতে, ক্ষুধা, ক্লান্তি কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গের ওপর অনেক সময় খাদ্যাভ্যাস নির্ভর করে। যেমন সারা দিন না খেয়ে থাকার পর খিদে মেটাতে কেউ শিঙাড়া খেলে, তাকে আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব বলা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দৈনন্দিন তালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা রাখা এবং বুঝে-শুনে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার এড়ানোর সেরা উপায়।
সূত্র : আনন্দবাজার











































