কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে আরো ৪১৫ জন আটক, থানায় অভিভাবকদের ভিড়

কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ৪১৫ জন কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।রবিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানা গেছে।

কিশোরগ্যাং বিরোধী পুলিশের এসব অভিযানে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় চার সদস্যও রয়েছে। তাদের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক। সে একটি গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ বলে জানায় পুলিশ।এদিকে, আটক কিশোরদের ছাড়িয়ে নিতে জেলার বিভিন্ন থানায় ভিড় করতে দেখা গেছে অভিভাবকদের।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান (মিডিয়া) বলেন, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অংশ নেয়। এতে কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোরদের বখাটেপনা, আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগে মোট ৪১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, দেবিদ্বার থানার পুলিশ রবিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে অন্তত ৫০ কিশোরকে আটক করেছে। পরে তাঁদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসব কিশোরদের আটকের পর রাতেই সন্তানদের ছাড়িয়ে নিতে থানার ভবনের সামনে ভিড় দেখা গেছে তাদের অভিভাবকদের।

শাহ আলম নামে এক অভিভাবক জানায়, আমার ছেলে রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল। পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে থানায় ধরে নিয়ে আসছে।তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে কিছু না পাওয়ায় ছেড়ে দিয়েছে। আমি মনে করি এটি আমাদের জন্য উপকার হয়েছে।

পুলিশের এমন অভিযান নিয়মিত চললে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ অনেকটা কমে যাবে। আমার ছেলে সন্ধ্যার পর আর বাহিরে বের হবে না মর্মে থানায় মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছে।

দেবিদ্বার-বিপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মো.শাহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, যাদের আটক করা হয়েছে তাদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে সন্দেহভাজন যে কিশোরদের আটক করা হয়েছে এমন কয়েকজন কিশোরের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র মামলাও রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরেরা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য নিয়মিতভাবে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়া জরুরি।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাং নতুন করে আলোচনায় আসে।

LEAVE A REPLY