বিশ্রামের সময়ও দুশ্চিন্তা? মনকে ‘বিরতি’ দেওয়ার কৌশল

সংগৃহীত ছবি

ব্যস্ত জীবনে কিছুটা অবসর পেলেও অনেকের মন যেন থামতে চায় না। ছুটির দিন কিংবা কাজ শেষে বিশ্রামের সময়ও মাথায় ঘুরতে থাকে অসম্পূর্ণ কাজ, দায়িত্ব কিংবা নানা দুশ্চিন্তা।ফলে শরীর বিশ্রাম নিলেও মন পুরোপুরি স্বস্তি পায় না।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে তথ্য জানায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডাভিত্তিক থেরাপিস্ট জেফরি মেল্টজার সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকার পর হঠাৎ বিশ্রামে গেলেও মস্তিষ্ক সব সময় দুশ্চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে পারে না।

বিশ্রামের সময়ও কেন দুশ্চিন্তা হয়?

মেল্টজারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, দীর্ঘ দিনের কাজ শেষে বা ছুটিতে থাকার সময়ও মস্তিষ্কে দায়িত্বগুলোর কথা ঘুরতে পারে। পোষা প্রাণীর যত্ন, কর, কাজের চাপ কিংবা অন্য কোনো অসম্পূর্ণ বিষয় নিয়ে চিন্তা চলতেই থাকে। তখন বাইরে থেকে মনে হতে পারে ব্যক্তি কিছুই করছেন না, কিন্তু মস্তিষ্ক তখনো ব্যস্ত।

থেরাপিস্টের মতে, এর একটি কারণ হলো মস্তিষ্ক অনেক সময় দুশ্চিন্তার বিষয়টি ছেড়ে দিতে স্বস্তি বোধ করে না।অর্থাৎ, বিশ্রাম নেওয়ার অনুমতি পেলেও মন যেন সেটিকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারে না।

এভাবে বিশ্রামের সময়ও মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকলে দীর্ঘদিনের মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হতে পারে।

মনকে কীভাবে বিরতি দেবেন?

মেল্টজারের পরামর্শ, বিশ্রামের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে মস্তিষ্ককে সচেতনভাবে জানাতে হবে যে ওই সময়টুকুতে কোনো কাজ বা দুশ্চিন্তা নিয়ে ভাবতে হবে না।

যেমন, নিজেকে বলা যেতে পারে—‘আগামী দুই ঘণ্টা আমি পুরোপুরি বিশ্রাম নেব। এরপর যে বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করছি, সেগুলো নিয়ে বসব।’

এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো দুশ্চিন্তার বিষয়গুলো পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং কখন সেগুলো নিয়ে ভাবা হবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে দেওয়া।

থেরাপিস্টের মতে, মস্তিষ্ক যখন বুঝতে পারে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ভুলে যাওয়া হচ্ছে না এবং পরে সেটি নিয়ে ভাবার সুযোগ থাকবে, তখন সাময়িকভাবে সেটি ছেড়ে দেওয়া সহজ হতে পারে।

বিশ্রামের সময় আবার কোনো দুশ্চিন্তার কথা মনে এলে নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে—এখন বিরতির সময়, বিষয়টি পরে দেখা হবে।

তবে এই পরামর্শটি একজন থেরাপিস্টের বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্টের ভিত্তিতে দেওয়া। এটি কোনো ব্যক্তির জন্য চিকিৎসা বা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পেশাদার পরামর্শের বিকল্প নয়।

LEAVE A REPLY