অনলাইনে প্রেম করছেন? প্রতারণা থেকে বাঁচতে চিনুন ৭ সংকেত

সংগৃহীত ছবি

অনলাইনে পরিচয়, নিয়মিত কথোপকথন, ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া ঘনিষ্ঠতা—সবকিছুই সত্যিকারের প্রেমের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু এই সম্পর্কের আড়ালেই কেউ যদি আপনার বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অর্থ, ব্যক্তিগত তথ্য বা অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে সেটি হতে পারে অনলাইন রোমান্স স্ক্যাম।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ অ্যারন বুগাল জানিয়েছেন, এ ধরনের প্রতারণায় অপরাধীরা প্রথমেই অর্থ চায় না। বরং কয়েক সপ্তাহ বা মাস ধরে কথা বলে তারা বিশ্বাস তৈরি করে। এরপর ধীরে ধীরে অর্থ বা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের মতে, অনলাইনে পরিচিত কারও আচরণে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

১. ছবি যেন অতিরিক্ত নিখুঁত

প্রোফাইলের ছবি অত্যন্ত নিখুঁত বা পেশাদার মনে হলে সতর্ক থাকুন। একই ছবি অন্য ব্যক্তির নামে একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।

২. পরিচয় বা গল্পে অসঙ্গতি

প্রোফাইলে ব্যক্তিগত তথ্য খুব কম, আবার কথাবার্তায় দেওয়া তথ্য বারবার বদলে যাচ্ছে—এটিও সতর্ক হওয়ার কারণ। পরিচয় বা জীবনের গল্প খুব সুন্দরভাবে সাজানো হলেও সেটি যাচাই করা না গেলে সহজে বিশ্বাস না করাই ভালো।

৩. দেখা করতে সবসময়ই অজুহাত

অনলাইনে নিয়মিত কথা বললেও সামনাসামনি দেখা করতে চাইছে না? কখনো কাজ, কখনো অসুস্থতা, কখনো ভ্রমণ বা ভিসার সমস্যা—প্রতিবারই নতুন অজুহাত দেখালে সতর্ক হোন। ভিডিও কল এড়িয়ে যাওয়াও একটি লক্ষণ হতে পারে।

৪. ভালোবাসার প্রমাণ হিসেবে টাকা চাওয়া

সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর হঠাৎ বিমানভাড়া, চিকিৎসা, আইনি খরচ বা জরুরি পরিস্থিতির কথা বলে টাকা চাইতে পারে প্রতারক। একবার টাকা দেওয়ার পর নতুন নতুন সমস্যার কথা বলে আবার অর্থ চাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

৫. ফেরত পাওয়া কঠিন এমন পেমেন্ট চাওয়া

ওয়্যার ট্রান্সফার, গিফট কার্ড বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা দিতে বলা হলে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।এসব পদ্ধতিতে পাঠানো অর্থ ফেরত পাওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হতে পারে।

৬. উপহারের নামেও টাকা চাওয়া

কেউ বিদেশ থেকে উপহার পাঠিয়েছে বলে জানিয়ে পরে কুরিয়ার খরচ, শুল্ক বা পণ্য ছাড়ানোর জন্য টাকা চাইতে পারে। দামি গয়না বা অন্য কোনো মূল্যবান উপহারের কথা বলেও অর্থ আদায়ের চেষ্টা হতে পারে।

৭. পরিবার ও পরিচিতদের থেকে দূরে রাখতে চাওয়া

আপনার পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্কটি নিয়ে আলোচনা করতে নিষেধ করছে? তাদের প্রশ্নকে অবিশ্বাস হিসেবে দেখিয়ে আপনাকে অন্যদের থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে? এটিও সতর্ক হওয়ার মতো আচরণ। কারণ প্রতারকেরা অনেক সময় ভুক্তভোগীকে বাইরের মানুষের পরামর্শ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখতে চায়।

শুধু অর্থ নয়, ঝুঁকিতে পড়তে পারে ব্যক্তিগত তথ্যও

রোমান্স স্ক্যামের ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়। প্রতারকেরা পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক বা আর্থিক তথ্য, পাসওয়ার্ড, নিরাপত্তা প্রশ্নের উত্তর কিংবা ব্যক্তিগত ছবি সংগ্রহের চেষ্টা করতে পারে।

নিজেই চাকরি ছেড়েছেন, তবু অন্যদের বলছেন ‘চাকরি ছাড়বেন না’, কেন?

কখনো ভুয়া বিনিয়োগ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে টাকা রাখার জন্যও প্রলুব্ধ করা হয়। দেখতে বৈধ মনে হলেও এসব অ্যাপ বা ওয়েবসাইট প্রতারকদের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও শেয়ার করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সেগুলো ব্যবহার করে অর্থ দাবি বা ব্ল্যাকমেইল করা হতে পারে।

কী করবেন?

কোনো একটি লক্ষণ দেখলেই যে সেটি নিশ্চিতভাবে প্রতারণা, এমন নয়। তবে একাধিক সতর্ক সংকেত একসঙ্গে দেখা গেলে থেমে গিয়ে ব্যক্তির পরিচয় ও দাবিগুলো যাচাই করা উচিত।

অনলাইনে পরিচিত কাউকে টাকা পাঠানোর আগে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য বা বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা সংবেদনশীল ছবি শেয়ার না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে বড় কথা, অনলাইনে তৈরি সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ঠ মনে হোক, বিশ্বাস তৈরির সঙ্গে সঙ্গে যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

LEAVE A REPLY