সংগৃহীত ছবি
শহরের ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিনই ধুলা, ধোঁয়া ও বায়ুদূষণের মধ্যে চলাফেরা করতে হয়। এসব দূষণ শুধু ত্বকের নয়, চুলেরও ক্ষতি করতে পারে।গাড়ির ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা ও বাতাসের সূক্ষ্ম কণা চুল এবং মাথার ত্বকে জমে যায়। পরে এগুলো মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও ঘামের সঙ্গে মিশে একধরনের আস্তরণ তৈরি করে। এতে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যায় এবং চুল দেখায় নিষ্প্রাণ।
দূষণের কারণে চুল শুষ্ক ও রুক্ষও হতে পারে।মাথার ত্বকে ময়লা জমে অস্বস্তি তৈরি হয়। আবার অতিরিক্ত ঘষে চুল পরিষ্কার করতে গেলে চুলের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি দূষণ থেকে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস চুলের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তরের ক্ষতি করতে পারে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চুলের যত্নে পাঁচটি অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন চুল বিশেষজ্ঞ ও সুরিয়া ব্রাজিলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্লেলিয়া সিসিলিয়া অ্যাঞ্জেলন।
১. শ্যাম্পুর আগে তেল ব্যবহার করুন
শ্যাম্পু করার প্রায় ৩০ মিনিট আগে চুলে হালকা উদ্ভিজ্জ তেল লাগাতে পারেন। তেল চুলের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে। এতে ধুলা-ময়লার প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। তেল লাগানোর সময় মাথার ত্বকে জোরে ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন।
২. নিয়মিত ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
চুলে জমে থাকা ধুলা, খনিজ পদার্থ ও অন্যান্য অবশিষ্টাংশ দূর করতে ক্ল্যারিফাইং শ্যাম্পু কাজে আসতে পারে।বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ পরপর একবার এ ধরনের শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চুল ও মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করা জরুরি। আপেল সিডার ভিনেগারের দ্রবণও চুলের বাইরের স্তর মসৃণ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
৩. রাতে ঘুমানোর আগে চুলের যত্ন নিন
সারা দিন বাইরে থাকার পর রাতে ঘুমানোর আগে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে চুল আঁচড়ে নিন। এতে চুলে জমে থাকা আলগা ধুলাবালি দূর হতে পারে। সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করলে ঘুমের সময় চুলের সঙ্গে বালিশের ঘর্ষণ কমে। পাশাপাশি ভিটামিন ই বা গ্রিন টি-যুক্ত লিভ-ইন কন্ডিশনার চুলে হালকা সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করতে পারে।
৪. উদ্ভিজ্জ উপাদানের পণ্য বেছে নিন
চুলের যত্নে উদ্ভিজ্জ তেল, মাখন ও ভেষজ নির্যাসযুক্ত পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। এসব উপাদান চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং রুক্ষতা কমাতে সহায়তা করে। অ্যাকাই, অ্যালোভেরা, মুরুমুরু ও জবা ফুলের নির্যাস চুলের যত্নে ব্যবহৃত হয়। মেহেদিও দীর্ঘদিন ধরে চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত একটি পরিচিত উপাদান।
৫. চুলের পণ্যের উপাদান দেখে নিন
শ্যাম্পু, কন্ডিশনার কিংবা চুলের অন্যান্য প্রসাধনী কেনার আগে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া ভালো। অ্যামোনিয়ার পাশাপাশি ইথানোলামিন, ডাইইথানোলামিন ও ট্রাইইথানোলামিনের মতো উপাদান রয়েছে কি না, সেদিকেও খেয়াল রাখতে পারেন। বিশেষজ্ঞের মতে, চুলের দীর্ঘমেয়াদি যত্নে উপাদান সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
শহরের দূষণ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়। তবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শ্যাম্পুর সঠিক ব্যবহার এবং রাতে চুলের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস চুলের স্বাভাবিক কোমলতা ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।










































