সংগৃহীত ছবি
উৎসবের সাজে মেহেদি থাকলে হাতের সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে বিয়ের পর প্রথম করওয়া চৌথে নতুন বউদের সাজপোশাক ও গয়নার পাশাপাশি মেহেদি নিয়েও থাকে বাড়তি আগ্রহ।তবে পোশাক পরা, গয়না সাজানো ও নানা আচার পালনের ব্যস্ততায় পুরো হাতে মেহেদি দেওয়ার সময় সবার থাকে না। এ ক্ষেত্রে অল্প সময়েই হাত সাজিয়ে তুলতে পারে মেহেদির ছোট ও সুন্দর কিছু নকশা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার লাইফস্টাইল বিভাগে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে করওয়া চৌথের জন্য এমন আটটি মেহেদির নকশার কথা তুলে ধরা হয়েছে, যা কম সময়ে হাতকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।
১. চাঁদ ও তারার নকশা

করওয়া চৌথের সাজে চাঁদের নকশা বেশ মানানসই।হাতের ওপর একটি বাঁকা চাঁদের সঙ্গে ছোট ছোট তারা, বিন্দু ও পাতার নকশা যোগ করলে তৈরি হবে সুন্দর নকশা। এটি দেখতে আকর্ষণীয়, আবার খুব বেশি জটিলও নয়।
২. ছোট মণ্ডল নকশা

গোলাকার ফুলের পাপড়ি, রেখা ও বিন্দু দিয়ে তৈরি মণ্ডল নকশা ঐতিহ্যবাহী সাজের জন্য উপযোগী। হাতের তালুতে বা হাতের পিঠে মাঝারি আকারের একটি মণ্ডল এঁকে চারপাশে কয়েকটি পাপড়ি ও বিন্দু যোগ করলেই সাজ সম্পূর্ণ হতে পারে।
৩. ফুল-পাতার নকশা

হাতের কবজি থেকে তর্জনী পর্যন্ত তির্যকভাবে ফুল, পাতা ও বাঁকানো রেখার নকশা আঁকতে পারেন। এতে হাতের বেশির ভাগ অংশ খালি থাকলেও নকশাটি দেখতে পরিপাটি ও আকর্ষণীয় লাগে।
৪. গয়নার মতো মেহেদি

মেহেদির নকশাকেই গয়নার মতো করে ফুটিয়ে তোলা যায়। কবজিতে চুড়ির মতো নকশা, হাতের পিঠে ছোট ফুল এবং আঙুলে আংটির আদল তৈরি করলে হাতফুলের মতো সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। এ ধরনের নকশার সঙ্গে আংটি বা ব্রেসলেটও মানিয়ে যায়।
৫. আমপাতার মতো পেইসলি নকশা
ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী নকশায় পেইসলি বা আমের মতো বাঁকানো নকশার ব্যবহার দীর্ঘদিনের। হাতের তালুর এক পাশে একটি পেইসলি এঁকে তার সঙ্গে পাতা ও বিন্দু যোগ করা যায়। হাতের পিঠে বা আঙুলেও ছোট করে এই নকশা করা সম্ভব।
৬. শুধু আঙুলে মেহেদি

পুরো হাতজুড়ে মেহেদি না দিয়েও আঙুল সাজানো যায়। দুই বা তিনটি আঙুলে ছোট ফুল, সরু রেখা, বিন্দু কিংবা সূক্ষ্ম নকশা আঁকলে হাত দেখতে সুন্দর লাগে। চাইলে তালু খালি রেখে কবজিতে ছোট একটি নকশাও যোগ করতে পারেন।
৭. নামের আদ্যক্ষর ও হৃদয়ের নকশা

নতুন দাম্পত্যের বিশেষ মুহূর্ত স্মরণীয় করতে মেহেদিতে সঙ্গীর নামের আদ্যক্ষর বা ছোট হৃদয়ের নকশা রাখতে পারেন। সহজ রেখায় তৈরি এই নকশা ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়। তবে মেহেদি দেওয়ার সময় অক্ষরগুলো যেন স্পষ্ট থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।
৮. হাতের অর্ধেকজুড়ে নকশা

পুরো হাতের বদলে তালুর অর্ধেক বা হাতের এক পাশে ফুল, বিন্দু ও সরু রেখার নকশা করতে পারেন। আঙুলের দিকে কয়েকটি রেখা টেনে নকশাটি বাড়িয়ে নিলে হাত আরও আকর্ষণীয় দেখাবে। যারা পুরো হাতের নকশা করতে চান না, তাঁদের জন্য এটি ভালো বিকল্প।
কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন?
মেহেদির নকশা বেছে নেওয়ার সময় পোশাক, গয়না ও নিজের পছন্দের কথা মাথায় রাখুন। ছোট নকশা হলেও পরিচ্ছন্ন রেখা ও সঠিক বিন্যাস হাতের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে। আর মেহেদি লাগানোর আগে ত্বকে অ্যালার্জির ঝুঁকি আছে কি না, তা বিবেচনা করুন। বিশেষ করে কালো মেহেদিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, তাই উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অল্প সময় হাতে থাকলেও সুন্দর করে সাজতে ভারী নকশার প্রয়োজন নেই। পছন্দমতো ছোট একটি নকশাই উৎসবের সাজে যোগ করতে পারে আলাদা সৌন্দর্য।








































