বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করে না? অলসতা ছাড়াও থাকতে পারে ৮ কারণ

সংগৃহীত ছবি

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও বিছানা ছাড়তে ইচ্ছা করে না? কিংবা দিনের অনেকটা সময় বিছানায় শুয়ে কাটাতে ভালো লাগে? অনেকে একে অলসতা মনে করলেও এর পেছনে থাকতে পারে ঘুমের সমস্যা, মানসিক চাপ, শারীরিক ক্লান্তি কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত কারণ। কখনো কখনো দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকার প্রবণতা হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যারও ইঙ্গিত দিতে পারে।

ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শ্রীনিবাস প্রসাদ বি ভি এ বিষয়ে আটটি সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন। তিনি বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ।

১. শারীরিক পরিশ্রম কম করা

দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক নড়াচড়া কমে যায়। এতে ধীরে ধীরে পেশির শক্তি ও হৃদ্‌যন্ত্রের কর্মক্ষমতা কমতে পারে।নিয়মিত হাঁটাচলা, হালকা ব্যায়াম এবং দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার মধ্যে বিরতি নেওয়া শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

২. ভালো ঘুম না হওয়া

হ

বিছানায় বেশি সময় কাটালেই যে পর্যাপ্ত বিশ্রাম হচ্ছে, তা নয়। ঘুমের মান ভালো না হলে দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার পরও ক্লান্তি থেকে যেতে পারে। ঘুমের মধ্যে শ্বাসপ্রশ্বাস বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণেও এমন হতে পারে।জোরে নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া এ সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

৩. আগের মতো কাজ করতে না পারা

আগে সহজে করা যেত, এমন কাজ করতে হঠাৎ কষ্ট হলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। হাঁটা, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা কিংবা ঘরের সাধারণ কাজ করতেই যদি শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দেয়, তাহলে একে শুধু বয়স বাড়া বা শরীরের ফিটনেস কমে যাওয়ার ফল বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সমস্যা বারবার হলে বা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ

Insomnia: causes, course and treatment

দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে ঘুম, রক্তচাপ, খাদ্যাভ্যাস ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। কেউ কেউ চাপ সামলাতে নিজের দৈনন্দিন কাজকর্ম কমিয়ে দিয়ে বিছানায় বেশি সময় কাটান। বিশ্রাম প্রয়োজন হলেও নিষ্ক্রিয় থাকা দীর্ঘমেয়াদে সমাধান নয়। নিয়মিত হাঁটাচলা, পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক প্রশান্তির চর্চা এবং কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা চাপ সামলাতে সাহায্য করতে পারে।

৫. অতিরিক্ত ওজন ও কম চলাফেরা

শারীরিক পরিশ্রম কম হলে ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। আবার ওজন বেড়ে গেলে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এভাবে কম চলাফেরা ও ওজন বৃদ্ধির একটি চক্র তৈরি হয়। শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম এ ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৬. শরীরের প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করা

কখনো কখনো কোনো কাজ করতে অস্বস্তি বা ক্লান্তি লাগার কারণে মানুষ বিছানায় শুয়ে থাকতে চান। কিন্তু হাঁটাচলা বা কাজের সময় শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, মাথা ঘোরা, হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা অতিরিক্ত ঘাম হলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি থাকলে এসব লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। হৃদ্‌রোগের লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে।

৭. নড়াচড়া করতে ভয় পাওয়া

আগে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা হলে অনেকে নড়াচড়া বা ব্যায়াম করতে ভয় পান। তাদের মনে হতে পারে, চলাফেরা করলে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তবে হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতার জন্য উপযুক্ত মাত্রায় শারীরিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত। হৃদ্‌রোগ থাকলে বা উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দিলে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

৮. অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা

Sleep Study FAQ - Revere Health

সব সময় ক্লান্ত লাগার পেছনে শুধু জীবনযাপনের অভ্যাস দায়ী নয়। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, অপুষ্টি, সংক্রমণ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এমন হতে পারে। হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, পা ফুলে যাওয়া বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে বা সমস্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

মাঝেমধ্যে বেশি সময় বিশ্রাম নেওয়া স্বাভাবিক। তবে দীর্ঘদিন ধরে ক্লান্তি বা নিষ্ক্রিয়তা চলতে থাকলে কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন। ক্লান্তির সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদ্‌স্পন্দন, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, শরীরের পরিবর্তনগুলো খেয়াল রাখা এবং যতটা সম্ভব নিয়মিত চলাফেরা করা। বিছানায় বেশি সময় কাটানোর অভ্যাস যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে একে শুধু অলসতা ভেবে উপেক্ষা না করে সম্ভাব্য কারণ খুঁজে দেখা উচিত।

LEAVE A REPLY