যে কারণে টাবু কখনো বিয়ে করেননি

৫৫ বছরে পা দিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী টাবু। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে একের পর এক প্রশংসিত চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি।তবে পর্দার সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও কম আলোচনা হয়নি এই অভিনেত্রীকে ঘিরে। বিশেষ করে তার বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত, অতীতের সম্পর্ক এবং অভিনেতা অজয় দেবগনের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিয়ে কৌতূহল রয়েছে ভক্তদের। কিন্তু কেন কখনো বিয়ের সিদ্ধান্ত নেননি টাবু? এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের ভাবনা জানিয়েছেন অভিনেত্রী। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, একা থাকাকে তিনি জীবনের অপূর্ণতা মনে করেন না।

I

অজয় দেবগনের মজার মন্তব্য

টাবুর বিয়ে না করার প্রসঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি অজয় দেবগনের সঙ্গে তার মজার কথোপকথন। গত বছর ‘অরোঁ মে কাহাঁ দাম থা’ সিনেমার প্রচারের সময় পুরোনো একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে টাবুর জন্য কেমন জীবনসঙ্গী উপযুক্ত—এমন প্রশ্নের জবাবে অজয় মজা করে বলেন, ‘টাবু কো ম্যায় চাহিয়ে, উসকো ও মিল নেহি সাকাতা।’ অর্থাৎ, টাবু তাকেই চান, কিন্তু তাকে পাওয়া সম্ভব নয়।

পরে নিজের কথার ব্যাখ্যা দিয়ে অজয় বলেন, তিনি আসলে তার মতো একজন বন্ধুর কথা বোঝাতে চেয়েছেন। তার মতো বন্ধু পৃথিবীতে আর নেই। অজয়ের কথায় হেসে ওঠেন টাবুও। অভিনেত্রী মজা করে বলেন, অজয়ের মতো মানুষই তাকে সহ্য করতে পারেন, অন্য কেউ হয়তো পারতেন না।

তবে টাবুর অবিবাহিত থাকার পেছনে অজয়কে দায়ী করার বিষয়টি ছিল নিছক বন্ধুত্বপূর্ণ রসিকতা।এর আগে ২০১৭ সালে ‘গোলমাল এগেইন’ সিনেমার প্রচারের সময়ও অজয়কে নিয়ে মজা করেছিলেন টাবু। অভিনেত্রী বলেছিলেন, ছোটবেলায় অজয় ও তার কাজিন সামীর আরিয়া তাকে অনুসরণ করতেন এবং কোনো ছেলে তার সঙ্গে কথা বললে ভয় দেখাতেন। এ কারণে মজা করে অজয়কে নিজের অবিবাহিত থাকার জন্য দায়ী করেন তিনি। এমনকি অজয়কে তার জন্য একজন পাত্র খুঁজে দিতেও বলেছিলেন।

U

সঞ্জয় কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক

টাবুর ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে অভিনেতা সঞ্জয় কাপুরের নামও। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রেম’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল বলে জানান সঞ্জয় নিজেই। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সিনেমাটির শুটিংয়ের শুরুর দিকে টাবুর সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। তবে ছবির কাজ শেষ হওয়ার আগেই তাদের মধ্যে কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়। সিনেমাটি মুক্তি পেতেও বেশ কয়েক বছর সময় লেগেছিল। তবে এই সম্পর্কের বিস্তারিত কারণ কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

H

সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গে প্রেম

প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার সঙ্গেও টাবুর সম্পর্ক ছিল। ১৯৯৭ সালে রেডিফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাজিদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন অভিনেত্রী। বিয়ের পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানিয়েছিলেন, তখনই বিয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই। পরবর্তী সময়ে তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। তবে বিচ্ছেদের পরও দুজনের বন্ধুত্ব বজায় ছিল বলে ২০১১ সালে ‘দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সাজিদও তাদের বন্ধুত্বের কথা স্বীকার করেছিলেন।

U

নাগার্জুনের সঙ্গে বিশেষ বন্ধুত্ব

দক্ষিণী অভিনেতা নাগার্জুনের সঙ্গেও টাবুর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বহু বছর ধরে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়ালেও দুজনের কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে নিশ্চিত করেননি। নাগার্জুনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে বিশেষ ও ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেছেন টাবু। অন্যদিকে নাগার্জুনও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে টাবুকে কাছের বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থান নিয়ে অবশ্য দুজনই বরাবরই ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রেখেছেন।

U

বিয়ে নিয়ে কী ভাবেন টাবু

অভিনেত্রী একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিয়ে না করাকে তিনি কোনো অপূর্ণতা হিসেবে দেখেন না। ২০১৬ সালে ‘ফিল্মফেয়ার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কেন এখনো একা রয়েছেন। জবাবে টাবু বলেছিলেন, বিষয়টি শুধু একজন মানুষের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে অন্য ব্যক্তি, সময় এবং আরো অনেক বিষয় জড়িত। তিনি আরো বলেন, অবিবাহিত থাকার কারণে তার জীবনে কোনো অভাব নেই। যদি এখনো একা থাকেন, তাহলে সেটি তিনি নিজের ইচ্ছাতেই থাকতে চান।

২০১৮ সালে জাগরণ চলচ্চিত্র উৎসবে বিয়ে না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে টাবু জানান, এ নিয়ে তার কোনো আফসোস নেই। বিয়ে করলে জীবন কেমন হতো, তা তিনি জানেন না। কারণ সেই অভিজ্ঞতা তার হয়নি। তাই একাকী জীবন ভালো নাকি দাম্পত্য জীবন ভালো—এমন তুলনা করতেও চান না তিনি।

২০২৩ সালে ‘এইচটি ব্রাঞ্চ’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী আরো স্পষ্টভাবে নিজের ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের সুখ শুধু সম্পর্কের অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। একা থাকলে নিজের নিঃসঙ্গতা সামলানো সম্ভব, কিন্তু ভুল মানুষের সঙ্গে সম্পর্কে থাকলে সেই অভিজ্ঞতা আরো কষ্টকর হতে পারে।

টাবুর ভাষায়, একটি আদর্শ সম্পর্কে দুজন মানুষ একে অপরের জীবনে থেকে আরো বিকশিত হবেন। সম্পর্কের কাজ মানুষকে স্বাধীনতা দেওয়া, আটকে রাখা নয়। নিজের কাজ, স্বাধীনতা ও পৃথিবীকে জানার আগ্রহকেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনের চেয়ে অভিনয়জীবনেই বেশি আলোচিত টাবু

১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে জন্ম টাবুর। তার পুরো নাম তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। মা ও নানা-নানির কাছে বড় হয়েছেন তিনি। শৈশব থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই অভিনেত্রী। ১৯৮০-এর দশকে শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় আসার পর ১৯৯০-এর দশকে বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।

‘মাচিস’, ‘বিরাসত’, ‘অস্তিত্ব’, ‘চাঁদনি বার’, ‘মকবুল’, ‘হায়দার’, ‘আন্ধাধুন’ ও ‘দৃশ্যম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। ‘মাচিস’ ও ‘চাঁদনি বার’-এর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন। এ ছাড়া ২০১১ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে।

ব্যক্তিজীবনে বিয়ে না করলেও অভিনয়, নিজের পছন্দ ও স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন টাবু। তার বক্তব্য থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট, বিয়ে না করাকে তিনি জীবনের ব্যর্থতা মনে করেন না। বরং নিজের মতো করে জীবন কাটানোতেই স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

LEAVE A REPLY