সকাল থেকে রাত মন ভালো রাখতে মেনে চলুন ৮টি অভ্যাস

সংগৃহীত ছবি

সকালে ঘুম থেকে উঠে মনটা বেশ ফুরফুরে। কিন্তু অফিসে যাওয়ার তাড়া, যানজট, কাজের চাপ, সহকর্মীর সঙ্গে মতের অমিল কিংবা একের পর এক দায়িত্ব—সব মিলিয়ে দুপুর গড়াতেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।আবার অফিস শেষে বাসায় ফিরেও অপেক্ষা করে নানা কাজ। পরিবারের দায়িত্ব, ব্যক্তিগত ব্যস্ততা আর পরের দিনের চিন্তা মিলিয়ে নিজের জন্য সময় বের করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

তারপরও ব্যস্ততার মধ্যে সারাদিন মন ভালো রাখা অসম্ভব নয়। এর জন্য সব সমস্যা এড়িয়ে চলতে হবে, এমনও নয়।বরং দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে মানসিক চাপ সামলানো এবং ভালো থাকার অনুভূতি ধরে রাখা সহজ হতে পারে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত মেনে চলতে পারেন এমন আটটি অভ্যাস।

১. ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়া নয়

সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসের চিন্তা কিংবা মোবাইলের নোটিফিকেশন দেখা শুরু করবেন না। ঘুম থেকে উঠে নিজের জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় রাখুন।জানালা খুলে বাইরের আলো-বাতাস উপভোগ করুন, এক গ্লাস পানি পান করুন। পছন্দের গান শুনতে পারেন কিংবা পরিবারের কারও সঙ্গে একটু গল্প করতে পারেন। সকালে অযথা তাড়াহুড়া না করে শান্তভাবে দিন শুরু করলে মানসিক প্রস্তুতি ভালো থাকে।

২. অফিসে যাওয়ার আগেই দিনের পরিকল্পনা করুন

সারাদিন কী কী কাজ করতে হবে, তা নিয়ে মনে মনে দুশ্চিন্তা না করে সকালে একটি ছোট তালিকা তৈরি করুন। কোন কাজটি বেশি জরুরি, কোনটি পরে করলেও চলবে, তা ঠিক করে নিন।সব কাজ একসঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করবেন না। কাজের চাপ বেশি থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সময় ভাগ করে নিন। এতে কাজ নিয়ে অস্থিরতা কমবে।

৩. যানজট বা অফিসের পথে মেজাজ হারাবেন না

অফিসে যাওয়ার পথে যানজট, গাড়ির জন্য অপেক্ষা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত দেরি—এসব ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই এসব নিয়ে বিরক্ত না হয়ে সময়টুকু নিজের মতো কাজে লাগান। পছন্দের গান বা পডকাস্ট শুনতে পারেন। গণপরিবহনে গেলে বই পড়তে পারেন। মনে রাখবেন, দিনের শুরুতেই রাগ বা বিরক্তি জমিয়ে রাখলে পরবর্তী কাজেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

৪. অফিসের কাজের ফাঁকে ছোট বিরতি নিন

একটানা কাজ করলে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই কাজের ফাঁকে কয়েক মিনিটের বিরতি নিন। চেয়ার থেকে উঠে একটু হাঁটুন, পানি পান করুন কিংবা জানালার বাইরে তাকান। দুপুরের খাবার সময়মতো খাওয়ার চেষ্টা করুন। কাজের চাপ থাকলেও বিরতি নেওয়াকে সময় নষ্ট মনে করবেন না। বরং এতে নতুন করে কাজে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

৫. সহকর্মীর আচরণে নিজের মেজাজ নষ্ট করবেন না

অফিসে সবার চিন্তাভাবনা ও কাজের ধরন এক রকম হবে না। কারও কথায় খারাপ লাগতে পারে, কোনো কাজে মতের অমিলও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে রেগে গিয়ে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ সময় নিন। প্রয়োজন হলে শান্তভাবে নিজের মতামত জানান। অন্যের আচরণ যেন আপনার পুরো দিনের ভালো লাগা নষ্ট না করে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৬. অফিস শেষে কাজের চিন্তা বাসায় নিয়ে যাবেন না

অফিসের কাজ শেষ হওয়ার পরও অনেকেই বারবার ই-মেইল, মেসেজ কিংবা পরের দিনের কাজ নিয়ে ভাবতে থাকেন। এতে ব্যক্তিগত সময়েও মানসিক চাপ থেকে যায়। জরুরি কাজ না থাকলে অফিসের সময়ের বাইরে কাজের যোগাযোগ সীমিত রাখুন। বাসায় ফেরার পথে কিছুক্ষণ গান শুনুন বা পছন্দের কিছু করুন। অফিস থেকে বাসায় ফেরার এই সময়টাকে কাজের চাপ থেকে নিজেকে আলাদা করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করুন।

৭. পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, নিজের পছন্দকেও গুরুত্ব দিন

বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করুন, সন্তানদের সময় দিন কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে এক কাপ চা পান করুন। ঘরের কাজ থাকলে সেগুলো ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করুন। পাশাপাশি নিজের পছন্দের কাজের জন্যও কিছুটা সময় রাখুন। বই পড়া, বাগান করা, রান্না, গান শোনা কিংবা পছন্দের কোনো অনুষ্ঠান দেখা—যে কাজটি আপনাকে আনন্দ দেয়, সেটি করুন। প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখা জরুরি।

৮. ঘুমানোর আগে দিনের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন

সারাদিনে কী কী খারাপ হয়েছে, তা ভেবে ঘুমাতে যাবেন না। বরং দিনের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করার চেষ্টা করুন। হয়তো অফিসের একটি কাজ সুন্দরভাবে শেষ করেছেন, সহকর্মীর সঙ্গে ভালো সময় কাটিয়েছেন কিংবা পরিবারের সঙ্গে হাসিখুশি কিছু মুহূর্ত পেয়েছেন। চাইলে ডায়েরিতে দিনের তিনটি ভালো লাগার বিষয় লিখে রাখতে পারেন। ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে পর্যাপ্ত ঘুমের প্রস্তুতি নিন। প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থতার জন্য সাধারণত প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।

সব সময় হাসিখুশি থাকার চাপ নয়

সারাদিন মন ভালো রাখা মানে এই নয় যে কখনো রাগ, দুঃখ বা হতাশা প্রকাশ করা যাবে না। ব্যস্ত জীবনে খারাপ সময় আসবেই। কোনো দিন কাজের চাপ বেশি থাকবে, কোনো দিন ব্যক্তিগত কারণে মন খারাপ হতে পারে। এমন দিনগুলোতে নিজেকে দোষ না দিয়ে একটু বিশ্রাম দিন। মনে রাখবেন, প্রতিদিনের ছোট ছোট আনন্দ, নিজের প্রতি যত্ন এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রাখার অভ্যাসই দিনশেষে ভালো থাকার অনুভূতি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

LEAVE A REPLY